প্রতীক পেয়েই প্রচারে প্রার্থীরা

11/07/2018 1:10 am0 commentsViews: 59

স্টাফ রিপোর্টার: প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রচারে নেমে পড়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের প্রার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রার্থিদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয় নির্বাচন কমিশনে। এরপর বিকেলের মধ্যেই পোস্টার পৱাকার্ডে ছেয়ে যায় নগরীর রাজপথ, অলি-গলি। প্রচারপত্র নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়িও যেতে শুর্ব করেন প্রার্থীরা।
গতকাল সকাল ৯টা থেকে নিজের কার্যালয়ে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ শুর্ব করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমির্বল ইসলাম। তাই সকাল থেকেই নিজেদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে নির্বাচন কার্যালয়ে যান প্রার্থীরা। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সেই প্রতীক নিয়ে সেৱাগান তুলে মিছিল নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফেরেন তারা।
ফলে সেৱাগানে সেৱাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নগরী। নির্বাচন অফিস প্রাঙ্গণসহ পুরো নগরীই পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর ছাপাখানাগুলোতে প্রার্থিদের ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার ছাপানোর কাজ শুর্ব হয়। অবশ্য মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা তাদের প্রতীক সম্পর্কে আগেভাগেই জানতেন। তাই কেউ কেউ ছাপার কাজ সেরে ফেলেছিলেন আগেভাগেই।
তবে স্বতন্ত্র মেয়র এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরৰিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীকের জন্য অপেৰা করতে হয়। শুধু তাই নয়, প্রতীক বরাদ্দের সময় একাধিক প্রার্থী একটি প্রতীককেই পছন্দ করলে সেৰেত্রে লটারিও অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই প্রতীক পান প্রার্থীরা। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতীক যা-ই হোক না কেন, তা নিয়েই এখন ভোটারদের দুয়ারে কড়া নাড়ছেন তারা।
জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, গতকাল সকাল ৯টায় প্রথমে সংরৰিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের প্রার্থিদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ শুর্ব হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় মেয়র এবং দুপুর ১২টা থেকে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের প্রার্থিদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী সিটি নির্বাচনে এবার মেয়র পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক দলের প্রার্থিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন ‘নৌকা’, বিএনপির মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ‘ধানের শীষ’, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান ‘কাঁঠাল’ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন তাদের দলীয় প্রতীক ‘হাতপাখা’। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী বামপন্থি সংগঠন গণসংহতি আন্দোলন সমর্থিত প্রার্থী মুরাদ মুর্শেদ ‘হাতি’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
গত ১৩ জুন রাজশাহী সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সেদিন থেকেই প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুর্ব হয়। মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা নেওয়ার এই কার্যক্রম চলে ২৮ জুন পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে মেয়র পদে ছয়জন, সাধারণ কাউন্সিলরে ১৬৯ জন এবং নারী কাউন্সিলর পদে ৫২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন।
গত ১ ও ২ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। গত সোমবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বাতিল ও প্রত্যাহারের পর এখন মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২১৭ জন। এর মধ্যে মেয়র পদের পাঁচজন ছাড়াও ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের প্রার্থী আছেন ১৬০ জন এবং সংরৰিত নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৫২ জন।
এসব প্রার্থীর সবাই প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর লিফলেট নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যেতে শুর্ব করেছেন। গতকাল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেবাজার এলাকায় ভোটারদের মাঝে গণসংযোগ শুর্ব করেন। এ সময় ভোটারদের হাতে নৌকা প্রতীকের লিফলেট তুলে দিয়ে নির্বাচনে ভোট প্রার্থনা করেন ১৪ দলের এই প্রার্থী।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই হযরত শাহমখদুম র্বপোষ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি নগরীর দরগাপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। বিতরণ করেন লিফলেট। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ দলের অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে প্রথম দিনই প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি বলেন, সাহেববাজার ও বেলদারপাড়া এলাকায় তার পোস্টার টানাতে দেওয়া হয়নি। এভাবে নির্বাচনের লেভেল পেৱয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে। প্রচারের প্রথম দিন বলে তারা মারামারি করেননি। পরে আবার এসব এলাকায় পোস্টার টানানোর চেষ্টা করা হবে বলেও জানান মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
এদিকে বুলবুলের এমন অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন বলেন, মিথ্যাচার করা বিএনপির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোথাও পোস্টার টানাতে বাধা দেওয়া হয়নি। তারা লেভেল পেৱয়িং ফিল্ড বজায় রেখেই নির্বাচন করতে চান।
আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। ২৮ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত প্রচারণা চলাতে পারবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুর্বষ একলাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী একলাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন। ৩০টি ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্র থাকবে ১৩৮টি।

Leave a Reply