লিটনের ইশতেহারে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা

11/07/2018 1:09 am0 commentsViews: 67

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই নিজের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করলেন রাজশাহী সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন। ১৫টি বিষয়ের ওপর ৮২টি প্রতিশ্র্বতির সেই ইশতেহারে রয়েছে তার উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা। ‘চলো আবারো বদলে দেই রাজশাহী’ সেৱাগানে এই ইশতেহারের মাধ্যমেই আধুনিক আর সমৃদ্ধ নগরীর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সাবেক এই মেয়র।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে খায়র্বজ্জামান লিটনের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আবদুল খালেক ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্র্বতি সাংবাদিকদের পড়ে শোনান। পরে এসব বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়র্বজ্জামান লিটন।
লিটনের ইশতেহারের প্রথমেই রয়েছে কর্মসংস্থান। এতে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে গার্মেন্টস শিল্প, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা এবং বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক দ্র্বত বাস্তবায়ন করে লৰাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন লিটন। প্রতিশ্র্বতি দিয়েছেন রেশম কারখানা ও টেঙটাইল মিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার। রাজশাহী জুটমিল সংস্কার, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং কুটির শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে চান লিটন।
শিৰানগরী হিসেবে খ্যাত এ নগরীতে শিৰা নিয়েও অনেক কাজ করতে চান জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামার্বজ্জামানের ছেলে খায়র্বজ্জামান লিটন। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্র্বত বাস্তবায়ন, রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, নতুন একাধিক বালক ও বালিকা স্কুল-কলেজ নির্মাণ, পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীত, ইউনানী এবং আয়ুর্বেদিক মহাবিদ্যালয় স্থাপন ও বিশ্বের প্রধান প্রধান ভাষা শিৰার ব্যবস্থা, পুরো নগরীর নাগরিক কেন্দ্রগুলোকে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা।
ইশতেহার অনুযায়ী, মেয়র নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্য খাতে লিটন নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মাতৃসদন স্থাপন করে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চান। দ্র্বত শেষ করতে চান নিজের প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ। প্রস্তাবিত পানি শোধনাগার প্রকল্প দ্র্বত বাস্তবায়ন করে নগরবাসীর বিশুদ্ধ খাবার পানিও সরবরাহ করতে চান লিটন। বস্তিবাসীর জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে তাদেরও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে চান তিনি।
লিটন তার এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে নিম্ন আয়ের মানুষদের বসবাসের জন্য বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে সহজ কিস্তিতে মালিকানা দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্র্বতি দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা, শিৰক, আলেম ও সাংবাদিকদের জন্যও আলাদা আবাসন এলাকা গড়ে তোলার প্রতিশ্র্বতি দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনি ইশতেহারের চার নম্বরে গুর্বত্বের সঙ্গেই এসব প্র্বতিশ্র্বতি দিয়েছেন লিটন।
লিটন তার নির্বাচনি ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুর্বত্ব দিয়েছেন শহরের অবকাঠামো গড়ে তোলার। এর মধ্যে নগরীর চারদিকে রিং রোড ও লেক নির্মাণের ঘোষণা এসেছে। নগরীজুড়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গণশৌচাগার নির্মাণ, নগরীর গুর্বত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ফ্লাইওভার এবং ওভারপাশ নির্মাণ, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও সাংষ্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের নির্মাণ কাজ দ্র্বত শেষ করার প্রতিশ্র্বতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলারও প্রতিশ্র্বতি দেওয়া হয়েছে।
খায়র্বজ্জামান লিটন মেয়র থাকাকালে নির্মল বাতাসের শহর হিসেবে সারাবিশ্বে সুনাম কুড়ায় রাজশাহী। এবার মেয়র হলে পরিবেশের সুরৰায় নগরীতে বৃৰরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্র্বতি দিয়েছেন লিটন। যোগাযোগের ৰেত্রে তিনি রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন এবং রাজশাহী-কোলকাতা ট্রেন চালু করতে চেয়েছেন। প্রতিশ্র্বতি দিয়েছেন বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার। এছাড়া পদ্মা নদী ড্রেজিং করে নৌ-চলাচল এবং নতুন নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে সাবেক এই মেয়রের এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে।
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা মার্কেট নির্মাণেরও ঘোষণা এসেছে লিটনের ইশতেহারে। এসবের বাইরে ক্রীড়াৰেত্রেও উন্নয়ন করতে চেয়েছেন লিটন। উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্র্বতি দিয়েছেন রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট ভেন্যু প্রতিষ্ঠার। এছাড়া প্রবীণ নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত, প্রবীণ নিবাস স্থাপন, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধ ও ঐতিহ্য সংরৰণ, সিটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা, ঈমাম-পুরোহিতদের জন্য উৎসব ভাতা চালু এবং মাদকমুক্ত রাজশাহী গড়ে তোলার স্বপ্ন নগরবাসীকে দেখিয়েছেন লিটন।
মেয়রের দপ্তর নগরবাসীর জন্য সর্বদা উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্র্বতি দিয়ে ইশতেহারে লিটন নগর ভবনকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন। তাছাড়া বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের আমলে হোল্ডিং ট্যাঙ যেভাবে বেড়েছে তা কমিয়ে সহনশীল পর্যায়ে আনার প্রতিশ্র্বতি দিচ্ছেন লিটন। বলছেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করে তিনি রাজশাহী নগরীকে একটি সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, মেয়র থাকাকালে উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত অথচ গুর্বত্বপূর্ণ এই শহরকে সব সূচকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির যে গৌরব অর্জন করেছিলাম তা আজ প্রায় শূণ্যের কোঠায়। আমার সময় রাজশাহী শান্তি, সম্প্রীতি, সমৃদ্ধি আর পরিচ্ছন্ন সবুজের বাসযোগ্য নগরীর মর্যাদা লাভ করেছিল। এগুলো সব অতীত হয়ে গেছে। আজ তা পুনর্বদ্ধার করতে হবে। তিনি এটি করতে চান। লিটন বলেন, রাস্তা প্রসস্থ করে যানজট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে চাই। খাস পুকুরের ভরাট বন্ধ করতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রফেসর ড: এম সাইদুর রহমান খান, কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন, ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেণী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, আওয়ামী লীগের শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগরের সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবুসহ ১৪ দলের অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply