রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও সক্রিয়তা প্রয়োজন

10/07/2018 1:04 am0 commentsViews: 8

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে অনেক সময় চলে গেছে। বাংলাদেশ তার সাধ্যাতিত পদৰেপ গ্রহণ করে সব মহলেই প্রশংসা অর্জন করেছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের টালবাহানার শেষ দেখা যাচ্ছে না। ফলে ১১ লৰাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর অমানবিক উদ্বাস্তু জীবন দীর্ঘ হচ্ছে। এর ফলে কতটা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে সেটা বলার অপেৰা রাখে না। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল তৎপর হলেও সমাধানের সুনির্দিষ্ট আলো দেখা যাচ্ছে বলা যাবে না।
সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস প্রধানের বাংলাদেশ সফর এবং রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা দেখে দেয়া বক্তব্য কতটা কার্যকর সেটা দেখতে অপেৰা করতেই হবে। তবে আন্তর্জাতিক পরিসর থেকে এ ধরনের বক্তব্য আরও আসবে এটাই স্বাভাবিক।
এই কদিন আগেই মানবাধিকার বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলকে সাৰাত দানকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার বলেছেন, মিয়ানমারকে সুনির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্র্বততর সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদৰেপ নেয়ার আহবান জানান তিনি। এই কথায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে প্রত্যৰ ও পরোৰ দায়-দায়িত্ব পরিস্কার হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ বরাবরই আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাৰিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের কথা বলে আসছে। এৰেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থনও পেয়েছে বাংলাদেশ। তারপরও রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে অগ্রগতি নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাৰরিত চুক্তি নিয়েও একই কথা বলা চলে।
এ অবস্থায় একথা জোর দিয়ে বলা যায়, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাৰিক চুক্তি স্বাৰর করলেও তার বাস্তবায়নে মিয়ানমারের প্রতিবেশী প্রভাবশালী চীন ও ভারত গুর্বত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এটা সবার জানা থাকলেও আশাবাদী হবার মত কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এ ৰেত্রে মুখে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা ঘোষণা করাই যে যথেষ্ট নয়, সেটা না বললেও চলে।
রোহিঙ্গা সমস্যা ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ নেই। দ্র্বততম সময়ে এর সমাধানে মিয়ানমারকেই যে এগিয়ে আসতে হবে, এ নিয়েও সন্দেহ নেই। এ জন্য অবশ্যই আমাদের এই প্রতিবেশীকে বাধ্য করার প্রয়োজনও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে সে জন্য তার প্রতিবেশীদ্বয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয়তার যে বিকল্প নেই, এটা জোর দিয়েই বলা যায়। বলতে অসুবিধা নেই, সোজা আঙ্গুলে কাজ হবে এটা কেউই মনে করে না।

Leave a Reply