লিটনের ইশতেহার প্রস্তুত, পিছিয়ে বুলবুল

09/07/2018 1:10 am0 commentsViews: 74

রিমন রহমান: মেয়র নির্বাচিত হলে রাজশাহীর মানুষের জন্য কী কী করতে চান তা জানাতে নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুত করে ফেলেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন। উন্নয়নের বার্তা আর স্বাস্থ্যসম্মত তিলোত্তমা নগরী গড়ার প্রতিশ্র্বতি থাকবে সাবেক এই মেয়রের এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে।
কিন্তু এৰেত্রে পিছিয়ে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। কারণ, নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুত করতে পারেননি তিনি। তবে তার নির্বাচনি ইশতেহারে খুব বেশি উন্নয়নের বার্তা থাকবে না বলেই জানা গেছে। কেন না, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ৰমতায় থাকায় বিএনপি মনে করে, সিটি করপোরেশনের আওতার বাইরে গিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়র্বজ্জামান লিটন ২০০৮ সালের সিটি নির্বাচনে ২৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন। মেয়র নির্বাচিত হয়ে সেই ইশতেহারের প্রায় সব কাজই করেন তিনি। পরে ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে লিটন ৩৭ দফা ইশতেহার প্রকাশ করেন। কিন্তু নানা কারণে এ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। তারপরও লিটন রাজশাহীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।
অন্যদিকে ২০১৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে ২০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলেও সেসবের কানাকড়ি বাস্তবায়ন করতে পারেননি মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বরং খায়র্বজ্জামান লিটনের হাতে গড়া পদ্মাপাড়ের এই পরিচ্ছন্ন শহর ভাঙা রাস্তাঘাট, যানজট ও ময়লা আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয় বুলবুলের আমলেই। এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ৰোভ আছে। এ অবস্থায় এবার নির্বাচনি ইশতেহারে কী কী প্রতিশ্র্বতি দেওয়া যায় সেগুলোই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারেননি বুলবুল।
নির্বাচনি ইশতেহারের ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল রোববার রাতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নিজেই বললেন, আমাদের ইশতেহার এখনও প্রস্তুত হয়নি। এ নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না। শুধু প্রতিশ্র্বতি দিলেই তো হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে। সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই ১৪ জুলাইয়ের পর আমি আমার ইশতেহার ঘোষণা করবো।
তবে খায়র্বজ্জামান লিটনের ইশতেহার প্রস্তুতের কথা জানালেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। তিনি বলেন, প্রায় শতাধিক দফার নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুত। আগামী ১০ জুলাই বেলা ১২টায় দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। ইশতেহারে পাঁচ তারকা হোটেল, ক্রিকেট ভেন্যু, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ট ফাউন্ডেশন, এক লাখ বেকারের কর্মসংস্থানসহ নানা বিষয় গুর্বত্বের সঙ্গে থাকবে।
গত নির্বাচনের ইশতেহার বাস্তবায়ন না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদ্য বিদায়ী মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বক্তব্য, পাঁচ বছরের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র ২২ মাস। এই সময়ের মধ্যেই ওয়াদার ৮০ শতাংশই পূরণ করেছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না থাকলে সব প্রতিশ্র্বতিই বাস্তবায়ন সম্ভব হতো।
তবে নগরীর উন্নয়ন না হওয়ায় বুলবুলেরই ব্যর্থতা আছে বলে মনে করেন নগরবাসী। তার ব্যর্থতার কারণে দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। নগরবাসী বলছেন, দলীয় কর্মকা-ে বেশি মনযোগী হওয়ায় ইশতেহার পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন বুলবুল। আর দলীয় কর্মকা-ের কারণেই তাকে জেল খাটতে হয়েছে, বরখাস্ত হতে হয়েছে মেয়রের পদ থেকে।
এদিকে নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন বলেন, বর্তমান নগরীর পরিসর ৭৫ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৩৫০ বর্গকিলোমিটার করতে চাই। রাজশাহী মহানগর পুলিশের নতুন ১২টি থানা এলাকা নিয়ে আমরা সিটি করপোরেশনের নতুন এলাকা ঘোষণা করতে চাই। তাহলে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা নির্মাণ, বড় বড় রাস্তা, লেক, খেলার মাঠ, দর্শনীয় স্থান, বিনোদনমূলক জায়গা, সাংস্কৃতিক এলাকা সবকিছু মিলিয়ে একটি চমৎকার শহর গড়ে তুলতে চাই। রাজশাহীকে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুরের মতো এশিয়ার মধ্যে একটি অন্যতম বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই বলেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামার্বজ্জামানের ছেলে এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন।
তবে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির প্রার্থী বলে কথা নয়, যিনি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্র্বতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না, তাকে মেয়র নির্বাচিত করবেন না বলেই জানিয়েছেন নগরবাসী। নগরীর অটোরিকশাচালক আফজাল হোসেন বলেন, যে প্রার্থী উন্নয়নের ওয়াদা দিয়ে তা পূরণ করতে পারবেন না তাকে ভোট দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দেখে, শুনে, বুঝে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেওয়ার কথা জানান তিনি।

Leave a Reply