চাল নিয়ে চালবাজি কি বন্ধ হবে না?

09/07/2018 1:04 am0 commentsViews: 13

কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই বাজারে চালের দাম বাড়তে শুর্ব করেছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ পুনর্বহালের ঘোষণার পর পরই চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে মহলবিশেষের কারসাজি না থেকে পারে না। কারণ বাজারের আমদানি করা চাল শুল্ক আরোপের আগের। আর দেশে এখন চালের কোনো ঘাটতি নেই। বোরো মৌসুমের নতুন চাল বাজারে। ফলে যখন দাম কমে আসার কথা ঠিক তখনই চালের দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক বলা যাবে না।
বাজারে এখন পর্যাপ্ত চাল। সরকারি গুদামগুলিতে মজুতের পরিমাণ ১০ লাখ টন। এবার বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ টন। এর মধ্যেই চাল আমদানি করা হয়েছে ৩৮ লাখ টন। আরও ৪৫ লাখ টন আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দামও কমেছে। ভারতে টনপ্রতি চালের দাম ৬ থেকে ৮ ডলার কমে গেছে। আর এর মধ্যে আমদানি করা চাল আরও অন্তত ২/৩ মাস বাজারের চাহিদা মেটাতে সৰম। এমন অবস্থায় বাজেটে শুল্ক পুনর্বহালের অজুহাতে চালের দাম বৃদ্ধি মহলবিশেষের কারসাজি ছাড়া আর কি হতে পারে?
গত বছর চালের বাজার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি সামাল দিতে চালের আমদানি শুল্ক না কমিয়ে পারা যায়নি। বন্যার কারণে ব্যাপক ফসলহানি ও চালের মজুত তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় ভিন্ন পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে আমদানি শুল্ক কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পথই বেছে নিতে হয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই বাজারে চালের মূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
চাল এদেশের প্রধান খাদ্য। তাই চালের বাজারে আগুন লাগলে তা দ্র্বত ছড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে সময় লাগবে না। নির্বাচনের বছরে সেটা কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে সেটা বলার অপেৰা রাখে না। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হবার বিকল্প নেই। যারা অসাধুভাবে চালের দাম বাড়িয়েছে তাদের দমন করার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। যাতে করে সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
এৰেত্রে সময়ৰেপন, অদৰতা, অদূরদর্শিতা অযোগ্যতারই নামান্তর। এর পেছনেও দুরভিসন্ধি থাকা অস্বাভাবিক নয়। ফায়দাবাজদের হাতে বাজার ছেড়ে দিয়ে আর যাই হোক পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যে সম্ভব নয় সেটা বলার অপেৰা রাখে না। এতে করে ক্রেতা-ভোক্তা বা উৎপাদক কেউই লাভবান হয় না। প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও এমনটা চাইতে পারেন না। অবিলম্বে চাল নিয়ে শুর্ব হওয়া চালবাজি বন্ধ করাই এখন জর্বরি হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply