গৌরবের পথেই এগিয়ে চলুক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

07/07/2018 1:06 am0 commentsViews: 38

দেশের অন্যতম উচ্চশিৰা কেন্দ্র ও উত্তরাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) আজ ৬৬ বছরে পা রাখলো। বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিনটি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। দীর্ঘ ৬৫ বছরের ইতিহাসে গৌরবের কমতি নেই। জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থেও এই শিৰা প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তারপরও অপশক্তির মাথা চাড়া দেয়া থেমে থাকেনি। কিন্তু তাদের দমন করেই এখানকার শিৰক-শিৰার্থীরা এগিয়ে চলেছেন। তাই সাফল্যের পাশাপাশি সংঘাত-সংঘর্ষের রক্তাক্ত ইতিহাসও রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের।
প্রায় ৩৫ হাজার শিৰার্থী ১০টি অনুষদের আওতায় ৫৮টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটসহ উচ্চতর গবেষণার জন্য এখানে রয়েছে ৫টি ইনস্টিটিউট। নিয়মিত পাঠদান ও গবেষণার সার্বৰণিক দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় সাড়ে ১৪শ শিৰক। শিৰক-কর্মচারিদের আবাসিক চাহিদা মেটাতে পূর্ব ও পশ্চিম পাড়াতে রয়েছে বহুতল কোয়ার্টার। আর ১৭টি আবাসিক হল রয়েছে শিৰার্থীদের জন্য। ডিজিটাল ব্যবস্থার সুবিধা রয়েছে সবার জন্যই। চালু রয়েছে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিটি কার্ড। যার মাধ্যমে শিৰক-শিৰার্থীদের যাবতীয় তথ্য যেমন জানা যাবে তেমনি এই কার্ড ব্যবহার করে সার্টিফিকেট, অনলাইন ব্যাংকিংসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সব কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে। আবাসিক হল ও ভবনগুলোতে রয়েছে ওয়াইফাই ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা। প্রায় ৪ লাখ দেশি-বিদেশি বই সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র, শহীদ মিনার, বরেন্দ্র জাদুঘর, জোহা চত্বর, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ, টিএসসিসি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাঙ্কর্য ‘সাবাশ বাংলাদেশ’সহ এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে চলেছে।
দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ভূমিকা রেখে চলেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ৬২’র শিৰা আন্দোলন, ৬৮-৬৯ রের ১১ দফা আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সাম্প্রদায়িক অশুভশক্তি বিরোধী সংগ্রামেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এখানকার শিৰক-শিৰার্থীরা। জেল-জুলুম, রক্ত ও জীবনদান, কোনো ৰেত্রেই পিছিয়ে ছিল না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
এসব প্রাপ্তির পাশাপাশি অপ্রাপ্তিও কম নেই। প্রায় ৩৪ বছর ধরে নেই কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। ফলে ছাত্র রাজনীতি অতীত ঐতিহ্য হারিয়েছে। শিৰকদের মধ্যে বিদ্বেষমূলক রাজনৈতিক কর্মকা- দৃষ্টিকটু হয়ে উঠতেও দেখা গেছে। ছাত্র সংগঠনের নামে সংঘাত-সংঘর্ষ ক্যাম্পাসকে কলুষিত ও রক্তাক্তও কম করেনি। তার পরেও জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশের শিৰার্থীরা এখানে ভিড় জমান প্রতি বছরই।
এখানকার শিৰার্থীরা যাতে জ্ঞানে-গুনে যোগ্যতা অর্জন করে দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারেন সে আশা সবারই। অর্জিত গৌরব ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়াই হোক সংশিৱষ্ট সবার লৰ্য।

Leave a Reply