উন্নয়নই সিটি নির্বাচনের প্রধান ইস্যু

06/07/2018 1:04 am0 commentsViews: 13

রাজশাহী নগর জুড়ে এখন বইছে সিটি নির্বাচনের হাওয়া। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুর্ব করার জন্য আর ক’টা দিন অপেৰার পালা। তবে ভোটারদের মধ্যে কথাবার্তা থেমে নেই। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকেই যে নগরবাসী সিদ্ধান্ত নেবে সেটা বুঝতে কারও অসুবিধা হয় না। তাই অন্য কিছুর চাইতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সৰম ব্যক্তির পৰেই মত প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।
ভোটার সাধারণের মধ্যে দল, প্রতীক ও ব্যক্তি পরিচিতির প্রভাব অস্বীকার করা যাবে না। তবে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবার আলামত দেখা যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সৰম হবেন, এমন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই নগরপিতা নির্বাচিত করতে আগ্রহী নগরবাসী। যে কোনো মূল্যেই তারা নাগরিক সেবার নিশ্চয়তা চান। গত ৫ বছরে এ ৰেত্রে অভিজ্ঞতা তীক্ত হওয়াতেই যে নগরবাসীর এমন ধারণা সেটা না বললেও চলে।
২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এই নগরীতে উন্নয়নের যে ধারা সূচিত হয়েছিল পরবর্তীতে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। এ সময়ে রাজশাহীর উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের তেমন কোনো ভূমিকা দেখেনি নগরবাসী। যে হেলদি সিটি, ক্লিন সিটি তার সবই ছিল আগের মেয়রের আমলে। এসব নগরবাসীর কাছে দৃশ্যমান। পরবর্তী মেয়র তার ধারে কাছেও যেতে পারেননি। এটাও কারও অজানা নয়।
গত মেয়রের আমলে ভাঙা রাস্তা মেরামত, জলাবদ্ধতা দূর করা, মশার উৎপাত রোধ করার মত কোন কাজই সুষ্ঠুভাবে হয়নি। হোল্ডিং ট্যাঙ বৃদ্ধি হয়ে উঠেছিল গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মত। এমনকি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ঠিকমত দেয়াও সম্ভব হয়নি সদ্য সাবেক মেয়রের পৰে। তবে তার মেয়াদের শেষ দিকে ১৭৩ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে সিটি কর্পোরেশন। যা ছিল রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্যের বরাদ্দের প্রকল্প। গত ঈদের আগে নগর ভবনের কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে অচলাবস্থা দেখা দিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে এই বরাদ্দের টাকার ওপরই ভরসা করতে হয়েছিল। এৰেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারি দলের মেয়র প্রার্থীর ইতিবাচক ভূমিকা ছিল উলেৱখ করার মত।
এ ধরনের অভিজ্ঞতা থেকেই নগরবাসীর কাছে পরিস্কার যে, কাঙিৰত উন্নয়নের জন্য কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের কেন্দ্র হিসেবে এই নগরীর উন্নয়নের ওপর নির্ভর করছে এ অঞ্চলের ভাগ্য। তাই যে কোন মূল্যে উন্নয়নের থেমে যাওয়া ধারা সচল করতে নগরবাসী যে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে এতে সন্দেহ না রাখাই ভালো।

Leave a Reply