শিরিন সুলতানা কেয়া: রাজশাহী নগরীর তালাইমারী- রেল স্টেশন রোডের সংস্কার কাজ শুর্ব হুয় অনেক দিন আগেই। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হয়নি। এরই মধ্যে পুরো সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হয়েছে। এতে এই রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই, প্রখর রোদে এখন ধুলোয় ধূসরিত পুরো এলাকা। এতে স্থানীয়দের দুর্দশায় চরমে উঠেছে।।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ কিলোমিটার এই রাস্তাটি সংস্কারের কাজটি পেয়েছে ‘মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যয় হবে ১৬ কোটি ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। কাজটি শুর্ব হয়েছে চলতি বছরের ৩১ মে। গত ১২ আগস্ট কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। তাই আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।
সরেজমিনে রাস্তাটিতে গিয়ে দেখা যায়, তালাইমারী থেকে উত্তরে নর্দান মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই লেনই খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান গর্ত। এর ভেতর দিয়ে রাস্তার দুই পাশে ছোট-বড় অসংখ্য গাড়ি চলাচল করছে। ফলে ধুলো উড়ছে। এতে পথযাত্রীসহ আশেপাশের দোকানিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সামান্য বৃষ্টি হলে এই ধুলো আবার কাঁদায় পরিণত হয়। এতে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। এবড়োথেবড়ো সড়কে ঘটে দুর্ঘটনা। যানবাহনের ৰতি। যাত্রীরা বিপদাপন্ন হচ্ছে।
নর্দান মোড়ে রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তিকে পাইপ নিয়ে রাস্তায় পানি দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আমার ওয়েলডিং এর দোকান এখানেই। এতো ধুলো উড়ছে যে দোকানে বসতে পারছি না। তাই পানি দিচ্ছি। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। রেজাউলের দোকানের পাশেই র‌্যাংগস্‌ মোটর লিমিটেডের শো-র্বম। সেখানকার কর্মকর্তা আবু রাসেল বলেন, আমাদের অফিস থেকে প্রতিদিন দুই-তিনবার করে পাইপ দিয়ে রাস্তায় পানি দেওয়া হয়। কিন্তু ধুলো কমছে না। অফিসে থাকতে খুব সমস্যা হয়। শো-র্বমে ঢুকে দেখা যায়, নতুন গাড়ির ওপর ধুলোর আস্তরণ।
সংস্কার কাজের জন্য নর্দান মোড় থেকে উপরভদ্রা পর্যন্ত রাস্তার বাম পাশের লেন বন্ধ রাখা হয়েছে। সব গাড়ি চলছে ডান লেন দিয়ে। রাস্তাটির দেবিশিংপাড়া মোড়ের ওয়াসার পাম্পের সামনেও পাইপ দিয়ে রাস্তায় পানি দিতে দেখা যায়। পাম্পের একজন কর্মচারিই এভাবে পানি দিচ্ছিলেন। ওই কর্মচারি বলেন, ধুলোর কারণে তিনি পাম্পে থাকতে পারেন না। তাই কিছুৰণ পরপরই রাস্তাটিতে পানি দেন।
উপরভদ্রা থেকে ভদ্রা মোড়ের স্মৃতি অমৱান চত্বর পর্যন্ত আবার রাস্তার ডান লেন বন্ধ। এখানে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। তাই শুধু বাম লেন দিয়েই দুই পাশের গাড়ি চলাচল করছে। ভদ্রা মোড় থেকে স্টেশন রোডের শিরোইল পর্যন্ত রাস্তার দুই লেনই খুঁড়ে মাটি ও পাথর দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। তবে কার্পেটিং করা হয়নি। তাই পাথরের ওপর দিয়েই চলছে সব ধরনের যানবাহন। আর এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গাড়িচালকদের। সেইসঙ্গে দুর্ভোগ হচ্ছে যাত্রীদেরও।
এই সড়কটি দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাটি এভাবে পড়ে আছে। তাই পাঁচ মিনিটের পথ পের্বতে সময় লাগে ১৫ মিনিট। ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে অটোরিকশায় গেলে প্রচ- ঝাঁকুনি লাগে। তাই প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আনোয়ার হোসেন বলেন, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ হচ্ছে ধুলোর কারণে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, সংস্কার কাজ চললে কিছুটা দুর্ভোগ হবেই। তারপরেও ধুলো যেন না ওড়ে সে জন্য ওয়াটার ট্যাংক ট্রাকের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন সকাল-বিকাল রাস্তায় পানি দিচ্ছি। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করবো। কোথাও কোনো সমস্যা নেই।
প্রথম মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়র্বল বাশার বলেন, সিটি নির্বাচনের সময় যেন কাজ না চলে- সে জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তখন কাজ বন্ধ ছিল। বৃষ্টির কারণেও কিছু দিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কাজটি প্রথম দফার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি। তবে এবার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিটি করপোরেশনের এই প্রকৌশলী।