বৃষ্টির অপেৰা বন্যার আশঙ্কা

23/06/2018 1:04 am0 commentsViews: 12

আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহ পার হলেও বৃষ্টির দেখা নেই। অসহ্য গরমে জনজীবন বিপর্যসৱ। অবশ্য বর্ষার আগে গ্রীস্মে বৃষ্টির দেখা পাওয়া গিয়েছিল। আগাম বৃষ্টিতে মৌসুমী ফল ও ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে ভালই।
আম পাকতে দেরি হয়েছে। এখন গরমের তীব্রতায় বিভিন্ন গাছের আম এক সাথে পাকতে শুরম্ন করায় বেশ বিপাকে পড়েছেন আমচাষিরা। বাজারে দরপতনে লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্য দিকে বর্ষায় বৃষ্টির অভাবে ধানচাষ ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির অপেৰায় রয়েছেন চাষিরা।
আবহাওয়ার পুর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপ ভারতের বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস’ান করছে। যার বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যনৱ বিসৱৃত রয়েছে। আর দৰিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় থাকায় দেশের মধ্যাঞ্চল ও দৰিণাঞ্চলে হাল্কা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টির খবর নেই এখন পর্যনৱ।
এই আষাঢ় মাসে বৃষ্টির অপেৰায় থাকতে হলেও বন্যার আশঙ্কা জেগেছে ঠিকই। এর মধ্যেই উজানের ঢলে সিলেট-কুমিলস্না-চট্টগ্রাম অঞ্চলে হঠাৎ বন্যা আঘাত হেনেছে। যমুনা ও পদ্মা নদীর পানি বাড়তে শুরম্ন করেছে। রাজশাহীতে ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি বেড়েছে ৪৬ সেন্টিমিটার। উত্তর থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও উজানে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যার পানি উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে নামতে শুরম্ন করেছে বলা যায়। ফলে একই সঙ্গে বৃষ্টির অপেৰা আর বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা ঢলের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে এবং ফারাক্কা ব্যারাজের গেট খুলে দিলে পদ্মা তীরবর্তী নদ-নদীর প্রবাহ বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রও একথা স্বীকার করেছে। তখন উত্তরাঞ্চলের বন্যা সময়ের ব্যাপার হয়ে উঠবে। তাই ৰয় ৰতির মাত্রা সহনীয় রাখতে এখনই বন্যা মোকাবিলার প্রস’তি শেষ করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই যে আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আচরণ সেটা বলার অপেৰা রাখে না। ফলে কৃষি ও ফসল উৎপাদনের ৰেত্রেও পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনার রাখতে হবে। প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলার মধ্য দিয়ে মানব সমাজের অগ্রগতির ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।

Leave a Reply