সোনালী ডেস্ক : শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি প্রদেশে এবার শুর্ব হয়েছে অগ্ন্যুৎপাত। গত শুক্রবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি প্রদেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। গতকাল বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৪ জনে। দেশটির স’ানীয় সময় গতকাল বুধবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিট থেকে মাউন্ট সোপুতান আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত শুর্ব হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৮০৯ মিটার উঁচু পর্যন্ত উড়ছে ছাই। আগ্নেয়গিরির আশেপাশের এলাকার মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস’াপনা সংস’া (বিএনপিবি)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে। শহরটির বাসিন্দারা এখনও শোক ও ধ্বংসযজ্ঞের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। খাবার আর বিশুদ্ধ পানির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা। ৰুধার্ত মানুষেরা ত্রাণ ভিক্ষা চাইছেন, সশস্ত্র মানুষেরা দোকানের দরজা ভেঙে যা পাচ্ছে নিয়ে যাচ্ছে,দল বেঁধে বিমানবন্দর দখল করছে এবং গণহারে জেল ভেঙে অপরাধী পালাচ্ছে। ভূমিকম্প পরবর্তী আফটারশকে এখনও থেমে থেমে কাঁপছে ইন্দোনেশিয়া। এমন পরিসি’তির মধ্যেই এবার শুর্ব হয়েছে অগ্ন্যুৎপাত। মাউন্ট সোপুতান আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত শুর্ব হওয়ার আগে ইন্দোনেশিয়ার মাল্টিপৱ্যাটফর্ম অ্যাপিৱকেশন ফর জিওহ্যাজার্ড মিটিগেশন অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট (ম্যাগমা) একটি সতর্কতামূলক বিবৃতি দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, ওই অঞ্চলে সামপ্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভূমিকম্প ও উদগীরণের ঝুঁকি বেড়েছে। থার্মাল ক্যামেরা রেকর্ডিং-এ দেখা গিয়েছিল, খুব উচ্চ তাপমাত্রার লাভা আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সোপুতানের মুখের কাছাকাছি চলে এসেছে। মাউন্ট সোপুতান আগ্নেয়গিরির ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় কোনও জনবসতি না থাকায় স’ানীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়নি আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস’াপনা সংস’া (বিএনপিবি)। বিএনপিবি’র প্রধান সুতোপো পুরয়ো নুগরোহো বলেন, ‘জনসাধারণের সরে যাওয়ার দরকার নেই, কারণ তারা এখনও নিরাপদ। চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনও জনবসতি নেই, সুতরাং তারা এখনও নিরাপদ আছে।’ বিএনপিবি’র এক সতর্কতামূলক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মাউন্ট সোপুতান আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে জনসাধারণের তৎপরতা চালানো উচিত হবে না। এ ছাড়া জ্বালামুখের পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমের সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকায়ও তৎপরতা চালানো যাবে না। উত্তপ্ত লাভা ও গরম মেঘের কবল থেকে বাঁচতে এ ব্যবস’া নেওয়া হয়েছে।’