বিষে পাকানো আম

24/05/2018 1:04 am0 commentsViews: 12

মৌসুমের শুর্বতে স্বাভাবিকভাবেই আমের চাহিদা বেশি থাকে। এই রমজানে ইফতারিতে পাকা আম কে না চায়! এই চাহিদাই এক শ্রেণির ব্যবসায়ীকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অপুষ্ট আম পাকাতে প্রলুব্ধ করে। বিষে পাকানো এই আম মানবদেহের জন্য ৰতিকর বলেই তা বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ।
রাসায়নিকে পাকানো আম বিক্রির বির্বদ্ধে এখন প্রশাসনিকভাবে দেশজুড়েই অভিযান চলছে। প্রায় দিনই বিভিন্ন স্থান থেকে বিষ মেশানো আম বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস এবং জড়িত ব্যবসায়ীকে জরিমানা করার খবর আসছে। এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতভেদে পুষ্ট আম পাড়ার দিনৰণ ঠিক করে দেয়া হয়েছিল। এ নিয়ে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। ফলে বাগানের আম পুষ্ট হবার আগেই নামিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো নির্বৎসাহিত হয়েছে বলা যায়। আগের মত বাজারে অপুষ্ট বিষাক্ত আম বিক্রি নেই বললেই চলে। এটা স্বস্তিদায়ক বটে!
শুধু আম নয়, বাজারে ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্যপণ্যের অভাব নেই। ফরমালিনযুক্ত পাকা ফল দোকানে দিনের পর দিন ঝুলে থাকলেও নষ্ট হয় না। পচেও না। হোটেল-রেস্তোঁরা-বেকারির খাদ্য পণ্যেও ভেজালের কমতি নেই। স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর হলেও মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা কিছুরই তোয়াক্কা করে না। এদের প্রতিরোধে কঠোর আইনী ব্যবস্থার বিকল্প আছে বলে মনে হয় না।
এখন রাসায়নিকে পাকানো আমের বির্বদ্ধে যে অভিযান চলছে তাতে যারা ধরা পড়ছে তাদের জরিমানা ও বিষাক্ত আম ধ্বংস করাই যথেষ্ট নয়। আর্থিক ফায়দা লুটতে যারা খাদ্যপণ্য বিষাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধানও জর্বরি। কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া কোনো অপরাধের মূলোৎপাটন করা যে সহজ নয় সেটা জঙ্গি-সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী অভিযান থেকেই প্রমাণিত।
এর পাশাপাশি জনসচেতনতারও প্রয়োজন। আম কেনার আগে তা বিষমুক্ত কি-না, যাচাই করতে অবহেলার খেসারত দিতে হয় ক্রেতা সাধারণকেই। এ জন্য বাজার নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার না করে শুধু সাময়িক অভিযানে স্থায়ী সুফল আশা করা কঠিন বৈ-কি!
কেউই বিষে পাকানো আম খেতে চায় না। বাজারে বিষাক্ত আম দেখতেও চায় না কেউ। এমন নিশ্চয়তাই দেখতে চায় সবাই।

Leave a Reply