মাছ চাষিদের দুঃখ

23/05/2018 1:02 am0 commentsViews: 29

স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। একইভাবে এগিয়েছে রাজশাহী জেলাও। জীবনৱ মাছ সরবরাহে নজির সৃষ্টি করেছেন এখানকার মাছ চাষিরা। তবে এতো অগ্রগতি সত্ত্বেও মাছ চাষিদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন বাড়লেও বাজারে মাছের কাঙিৰত দাম না পাওয়ায় দুঃখ কমছে না তাদের।
রাজশাহীতে ৪৮ হাজার ৪৭০ টি পুকুর, নদী-খাল-বিল পস্নাবনভূমি মিলে প্রায় ৩৮ হাজার ৭৭৯ হেক্টর জমিতে মাছ চাষ হয়। গত অর্থ বছরে মাছ উৎপাদন হয়েছিল ৮০ হাজার ৮৭৭ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ২২ হাজার ৬২ মেট্রিক টন বেশি। এই জেলা থেকে প্রায় ২৫০ ট্রাক জীবনৱ মাছ রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যায় প্রতিদিন। বিশেষ ব্যবস’াপনায় জীবনৱ মাছসহ বাজারে মাছ সরবরাহ বাড়লেও আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না, এমন অভিযোগ মাছচাষি ও ব্যবসায়ীদের।
মাছের খাবারের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে কয়েকগুণ। মাছ পরিবহনে খরচও কম নয়। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সেতুতে জীবনৱ মাছের ট্রাক ওজনের নামে হয়রানির কারণে সময়মত বাজার ধরতে না পারা, পুকুরে পানি সংকট, পানি সরবরাহে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপৰের (বিএমডিএ) গরিমসি, বিদেশ থেকে মাছ আমদানি প্রভৃতি কারণে মাছের ব্যবসায়ে মন্দাভাব জেঁকে বসেছে। এ অবস’া দীর্ঘস’ায়ী হলে মাছের খামারগুলি নষ্ট হয়ে যাবার আশঙকা প্রকাশ করেছেন সংশিস্নষ্টরা।
অথচ লাভ ভালো হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষে ঝুঁকেছেন অনেকেই। গত ৫ বছরে এখানকার হাজার হাজার আবাদি জমি পুকুরে পরিণত হয়েছে। পুকুরে উৎপাদিত তাজা ও জীবনৱ মাছই শুধু নয়, বড় মাছ সরবরাহ করেও নাম কিনেছেন রাজশাহীর মাছ ব্যবসায়ীরা। কিন’ লাভের নিশ্চয়তা না থাকায় এখন গভীর দুশ্চিনৱায় পড়েছেন তারা।
উলেস্নখিত সমস্যাগুলির কথা বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হলেও সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰ সমাধানে এগিয়ে না আসায় দিন দিন হতাশা বাড়ছে মাছ চাষি ও ব্যবসায়ীদের মনে। এর মধ্যেই শিৰিত-অশিৰিত হাজার হাজার যুবক এই ব্যবসায় জড়িয়েছেন। সর্বস্ব বিনিয়োগ করেছেন। এখন বিরূপ পরিসি’তির শিকার হওয়ার দুঃখ চেপে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে তাদের পৰে। এই বিকাশমান গুরম্নত্বপূর্ণ খাতটিকে রৰায় প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া খুবই জরম্নরি বলে আমরা মনে করি।

Leave a Reply