মাদকের বির্বদ্ধে যুদ্ধ

22/05/2018 1:04 am0 commentsViews: 62

জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বির্বদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে অভিযানে সরকার অনেকটা সফলতার মুখ দেখেছে। জঙ্গিরা প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসী তৎপরতাও থেমে গেছে। একইভাবে মাদকের বির্বদ্ধে অভিযানের ঘোষণা এসেছে শীর্ষ পর্যায় থেকেই। শুর্ব হয়েছে সর্বাত্মক অভিযান। দেশজুড়ে মাদক নির্মূলের অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই হতাহতের খবরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে মাদকের রাজত্বে। আগের মত চেহারা দেখা যাচ্ছে না মাদক ব্যবসায়ীদের।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুর্ব হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ লৰ্য করা যায়। কারণ যুব সমাজ ও তাদের মেধা বাঁচিয়ে রাখতে মাদক নিয়ন্ত্রণ জর্বরি হয়ে উঠেছিল। মাদকের ছড়াছড়িতে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়েছে সর্বত্র। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যেও মাদকাসক্তির খবর এখন আর অজানা বিষয় নয়।
অভিযান শুর্বর পর থেকে এ পর্যন্ত রাজশাহীসহ সারাদেশে নিহতের সংখ্যা ২৫-৩০ এর কম নয়। এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীর সাজা ও পাঁচ শতাধিক মামলা হয়েছে বলে জানা। এর মধ্যে রাজধানীতেই একাধিক কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তবে মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিতরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। কয়েকজনের দেশ ত্যাগের খবর জানাজানির পর বিমানবন্দর ও সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।
যে কোনো অপরাধের মতই উৎসে হাত না দিলে মাদক সমস্যার সমাধানেও নিশ্চিতভাবে কিছু বলাটা কঠিন। র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর সন্ত্রাসীদের বির্বদ্ধে একই ধরনের অভিযানেও দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছিল তেমনি জনমনে স্বস্তিও ফিরে এসেছিল। কিন্তু সে অভিযানও স্বাভাবিক কারণেই স্থায়ী হয়নি। এ নিয়ে নানা সমালোচনাও শোনা গেছে।
দেশে উৎপাদনের চেয়ে মাদক দ্রব্য সীমান্তের ওপার থেকেই আসে বেশি। তাই মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলাই যায়। তা ছাড়া মাদকের কেনাবেচা অবিশ্বাস্য লাভজনক হওয়ায় টাকা বিনিয়োগ ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে অনেকেই। সাধারণত মাদকসেবীদেরই বেশি সংখ্যায় এ সবে যুক্ত হতে দেখা যায়। আর যুব সমাজের মাদকাসক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা নতুন করে না বললেও বলে। ফলে স্বাভাবিক কারণেই মাদক নির্মূলে আপত্তি দেখা যায় না।
তবে স্থায়ীভাবে অপরাধ নির্মূলের মত এ ৰেত্রেও আইন ও বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সাময়িকভাবে সুফল পাওয়া গেলেও মাদক নির্মূলে সামগ্রিকভাবে পরিকল্পিত পদৰেপের ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

Leave a Reply