ভাজা-পোড়াতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

21/05/2018 1:04 am0 commentsViews: 12

ফুটন্ত তেলে মচমচে ভাজা খেতে কার না মজা লাগে! হোটেল-রেসেঁ্তারা, রাস্তার পাশে ভাজা-পোড়া খাবার দোকানে ভিড় জমে ওঠে প্রতিদিন বেলা শেষে। আর রমজানের ইফতারে থাকে এ সবেরই প্রাধান্য। অথচ, ভাজা-পোড়াতেই স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাই ভাজা-পোড়ায় ইফতারি না করার পরামর্শ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
কারণ খাবার দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় তৈরি ভাজা-পোড়া খাবার মচমচে ও সুস্বাদু করতে ট্রান্সফ্যাটযুক্ত চর্বি বা হাইড্রোজিনেটেড অয়েল ব্যবহার করা হয়। সাধারণভাবে সয়াবিন, পাম অয়েল, ডালডা বা বনস্পতি দিয়েই বিভিন্ন ভাজা- পোড়া তৈরি হয়। একই তেল বার বার ভাজলে তাকে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয়। বেশি পরিমাণ ট্রান্সফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ৰতিকর। নিয়মিত ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবারে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে আর ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বি জমাট বাঁধে। ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাদ্য গ্রহণকারীদের স্থুলতা, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চর্বিযুক্ত মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যেও ট্রান্সফ্যাট পাওয়া যায়। তবে কৃত্রিম ট্রান্সফ্যাটই বেশি ৰতিকর। এ থেকে স্বাস্থ্যহানী, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিতেও পড়তে হয়। শুধু ভাজা-পোড়াই নয়, বেকারী দ্রব্যাদি, ফাস্টফুড, ক্রোকারিস, চানাচুর, বিস্কুটেও ডালডা বা ট্রান্সফ্যাটযুক্ত তেল ব্যবহৃত হয়। এ সবও সারা বছরই দেদারসে বেচাকেনা হয়।
ট্রানন্সফ্যাটযুক্ত খাবারে পেটের পীড়াসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক এবং বিজ্ঞান ও গবেষণাগারের কর্মকর্তাগণ। এসব খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মতো কঠিন অসুখও হতে পারে। তারপরও এ সব খাবার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ে না।
বিশেষ করে রমজানে ইফতার সামগ্রী হিসেবে ভাজা-পোড়ার কাটতিই বেড়ে যায়। এ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির পদৰেপ কেন নেয়া হয় না সেটা বোধগম্য নয়। জনগণের স্বাস্থ্য রৰার দায়িত্ব যাদের তারা বিষয়টিকে গুর্বত্ব সহকারে নেবেন এটাই সবার কাম্য।

Leave a Reply