রমজানের আদর্শ ও শিৰায় জীবন আলোকিত হোক

18/05/2018 1:04 am0 commentsViews: 17

প্রতি বছরের মতো এবারও আত্মশুদ্ধি ও সিয়াম সাধনার দাওয়াত নিয়ে এসেছে মাহে রমজান। রমজান বা রোজার আভিধানিক অর্থ উপবাস। আরেক অর্থ জ্বালিয়ে দেয়া, পুড়িয়ে দেয়া। আর সিয়াম শব্দটি এসেছে আরবী ‘সাওমুন’ থেকে যার অর্থ বিরত থাকা। অর্থাৎ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পূর্ণ সময় খাদ্য-পানীয়, যাবতীয় ভোগ-বিলাস, পাপাচার থেকে নিজেকে বিরত রাখা।
ইসলামের অন্যসব আমলের মধ্যে রোজা হলো গোপন ইবাদত। শুধুমাত্র উপবাসে রোজার প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করা সম্ভব নয়। সঠিকভাবে রোজা পালনের জন্য আত্মশুদ্ধির পথ অনুসরণ করা অপরিহার্য।
রমজান মাস হলো সকল মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস। এটি হলো হিজরী বছরের নবম মাস। ফজিলত ও মর্যাদার দিক দিয়ে পবিত্র রমজান মাস বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। এ মাসের যে কোনো নেক বা পূণ্যের কাজ দ্বারা অন্য যে কোনো মাসের নেক কাজের সত্তর গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কোরআন এবং হাদীসে অসংখ্য বর্ণনা পাওয়া যায়। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজার স’ান গুর্বত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে।
রমজান মাসেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এই কিতাব মানব জাতির জন্য পথ নির্দেশিকা স্বরূপ। এ মাসেই সালাতুল তারাবী নামাজ আদায় করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ২০ রাকাত নামাজের মাধ্যমে প্রথম সাত দিনে দেড় পারা এবং পরবর্তী ২০ দিনে এক পারা করে ২৭ দিনে পুরো ৩০ পারা কোরআন শরীফ পাঠ করা হয়। রোজাদারদের কাছে তারাবী নামাজে কোরআন খতম সর্বশেষ গুর্বত্ব পেয়ে থাকে।
পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের মাস। সম্প্রীতি স’াপনের মাস। পাড়া-প্রতিবেশী, গরিব দু:খীদের মাঝে ইফতারি বিনিময় ও দান-খয়রাত বিতরণের রেওয়াজ বহুদিন থেকেই চলে আসছে আমাদের সমাজে। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে রোজা হলো মহত্ব অর্জনের ইবাদত। এ মাস হলো সবচেয়ে বরকতপূর্ণ ইবাদতের মাস।
রমজান মাসের প্রথম অংশ আলৱাহর রহমতের, দ্বিতীয় অংশ মাগফিরাতের এবং তৃতীয় অংশ জাহান্নাম হতে মুক্তির। রোজা দ্বারা মানুষের সংযম, ধৈর্য্য, গুণ এবং স্বাস’্যগত উপকার সাধিত হয়। রোজা দ্বারা মানুষ কর্মঠ, সহিষ্ণু, সহনশীল, নিয়মানুবর্তি এবং পরিশ্রমী হবার সুযোগ লাভ করে। রোজা হলো মানুষের ঢাল স্বরূপ। মানুষ যেমন ঢাল দ্বারা আত্মরৰা করে তেমনি রোজা দ্বারা ঈমান এবং আমল বাঁচানো যায়। রমজানের এই আদর্শ ও শিৰায় আমাদের উদ্বুদ্ধ হওয়া জর্বরি। স্বাগত মাহে রমজান।

Leave a Reply