খুলনায় অনিয়ম না থাকলেও ভোটের ফল একই থাকতো : ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্র্বপ

17/05/2018 1:06 am0 commentsViews: 11

এফএনএস: খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করেছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর একটি মোর্চা; তবে তারা বলছে, এসব অনিয়ম না ঘটলেও ভোটের ফলাফল একই থাকত। খুলনায় নির্বাচনের পরদিন গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের পর্যবেক্ষণে পাওয়া বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্র্বপ (ইডাবিৱউজি)। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক প্রায় ৬৬ হাজার ভোটে বিএনপির প্রার্থী নজর্বল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে দেন। প্রায় ৫ লাখ ভোটারের এই সিটি করপোরেশনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রের ভোট অনিয়মের কারণে স্থগিত করতে হয় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে।
ভোটের হার ছিল ৬২ দশমিক ১৯। ইসি ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও পরাজিত প্রার্থী মঞ্জু ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ১০০টি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন। নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ইডাবিৱউজির পরিচালক মো. আবদুল আলীম বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা এবং নির্বাচনী অনিয়মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও বেশ কিছু কেন্দ্রে নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের জন্য সহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়ম করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন ওই সব ঘটনার ব্যাপকতা বেশি না হওয়ায় তা ভোটের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অর্থাৎ তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো অনিয়ম না হলেও তালুকদার খালেকই বিজয়ী হতেন। মোট ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১৪৫টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে তার ভিত্তিতে নিজেদের প্রতিবেদন দিয়েছে ইডাবিৱউজি। আলীম বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষক দল ৩২ শতাংশ কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা দেখতে পেয়েছে; এর মধ্যে অবৈধভাবে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ভোট কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে সংগঠিত সামান্য সহিংসতা, ভোটকেন্দ্রে অননুমোদিত মানুষের উপস্থিত এবং ভোটারকে ভোট প্রদানে বাধার মতো ঘটনা ঘটেছে। ইডাবিৱউজির পর্যবেক্ষণে অনিয়মগুলো হলো: অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ২৮টি কেন্দ্রে। বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানের ঘটনা ৪টি। ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে সহিংসতার ঘটনা ১৬টি। ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ১৮টি। ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে প্রার্থীদের যানবাহন দেওয়ার ঘটনা ১৭টি। পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ৪টি। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ১০টি। অনিয়মে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার, ১০টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা এবং পরে সাতটিতে ভোট গ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। আলীম বলেন, এসব ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে ভোট গণনা শুর্ব, ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ নিশ্চিত করা, গণনার আগে সব ব্যালট বাঙে নিরাপত্তা সিল লাগানো ছিল। ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট এবং ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট দেখতে পেয়েছে ইডাবিৱউজির পর্যবেক্ষকরা। বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের পোলিং এজেন্টদে থাকতে দেওয়া হয়নি, সমর্থকদের কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ সরকারি দলের হয়ে কাজ করেছে।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কেমন ছিল- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে আলীম বলেন, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তবে যেসব ঘটনায় প্রার্থীদের পক্ষ অবলম্বন করেছে, সেগুলোর মাত্রা ছিল ছোট। নির্বাচন একেবারে শান্তিপূর্ণ বা একেবারে বিশৃঙ্খল বলার সুযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলনে ইডাবিৱউজির আরেক পরিচালক ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুলৱাহ বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের বেশ কিছু ঘটনা আমরা হাজির করেছি। এসব ঘটনা তুলে ধরার অর্থ হচ্ছে ভবিষতে নির্বাচনে যাতে এ ধরনের কোনো ছোট বা বড় কোনো অনিয়মের ঘটনা না ঘটে, সেই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। বিএনপি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি তুলেছে। তারা বলছে, খুলনার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, এই ইসির অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না। সাংবাদিকদের প্রশ্নে কলিমুলৱাহ বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে বা অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাতে মনে হয়েছে শপথ তারা ভঙ্গ করেননি। সেসব কেন্দ্রে জাল ভোট হয়েছে, সেগুলো তারা আমলে নিয়েছে এবং কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ইডাবিৱউজির অংশীদার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের কো-অর্ডিনেটর আ হ ম ফয়সাল, আরেকটি অংশীদার সংগঠনের প্রতিনিধি মনির্বজ্জামান জমাদার উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply