বোরো চাষির স্বপ্ন ভেঙে খান খান

16/05/2018 1:02 am0 commentsViews: 11

এবার অসময়ে বৃষ্টি হয়েছে প্রচুর। বৈশাখের খরতাপ ঢাকা পড়েছে আকাশ জুড়ে কালোমেঘের ঘনঘটা আর বজ্রবৃষ্টিতে। বজ্রপাতে মৃত্যুর পাশাপাশি কালবৈশাখীর ৰতিও সইতে হয়েছে। খরা প্রবণ রাজশাহীতেই বৈশাখী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ মিলিমিটারের ওপর। আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব এবার ৰতিগ্রসৱ করেছে বোরোচাষিদের।
বৈশাখের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে বোরো চাষির স্বপ্ন। বাম্পার ফলন যেন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। মৌসুমের শুরম্নতে সবকিছু অনুকূল থাকায় চাষি ও কৃষি বিভাগের ভালো ফলনের আশায় সবাই বুক বেঁধেছিল। সরকার ধানের আগাম দর ঘোষণা করেও আশাবাদ বাড়িয়ে তুলেছিল। কিন’ পাকা ধানে মই দেবার মতই আগাম ঝড় বৃষ্টিতে সব আশার প্রদীপ মস্নান হতে বসেছে। ১০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করা বৃষ্টিতে ধান খেতে পানি জেমেছে। ঝড়-শিলাবৃষ্টি পাকা ধান ফেলে দিয়েছে। ঝরে পড়েছে অনেক ৰেত্রেই। রয়েছে চিটার প্রাদুর্ভাবও। এর ওপর ধানকাটা মজুরের অভাব প্রকট। অতিরিক্ত মজুরিতেও মিলছে না ধানকাটার লোক। এসবেই চাষির স্বপ্ন ভেঙে খান খান হবার মুখে।
আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে দেশ বিদেশে অনেক কথা, অনেক অনুষ্ঠান। এর ৰতিপূরণের কথাও অজানা নেই। বোরো চাষিদের বিপর্যয় বিষয়টিকে আরও সামনে টেনে এনেছে। অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি আবহাওয়াকে কীভাবে বেসামাল করে তুলেছে সেটা বৈশাখের অতিবৃষ্টিই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এখন বোরো চাষির ৰতিপূরণে এগিয়ে আসার পাশাপাশি সার্বিক সমাধান নিয়েও মাথা ঘামাতে হবে।
বাজারে ধান-চালের দাম ভালো হওয়ায় এবার বোরোর আবাদ বেড়েছে। গত বছরের চাইতে রাজশাহীতে প্রায় অতিরিক্ত ১৫ হাজার বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও এখন আর চাষির গোলা ভরবে না। এমন অবস’া যে একবারই তা কি বলা যায় ? তাই বিকল্প পথ ছাড়া ধানের ফলন স্বাভাবিক রাখা কঠিনই হবে মনে হয়।
আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে কৃষি পরিকল্পনা নেয়াও জরম্নরি হয়ে উঠেছে। বাসৱবতা অনুযায়ী প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতাও কমিয়ে আনতে হবে। ফসল আবাদের পরিবর্তিত ধরনের সাথে কাটা, ঝাড়াই-মাড়াই যন্ত্রের ব্যবহারও বাড়াতে হবে। কৃষি মজুরের সংকট দিন দিন যে ভাবে বাড়ছে তাতে এছাড়া উপায়ই বা কি?
নতুন জাতের বীজ উদ্ভাবনের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে কৃষির বিকাশে অবহেলা হলে ৰতির পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। এ মৌসুমে বোরো চাষির স্বপ্ন ভেঙে খান খান হওয়ার মত ঘটনা যে বাড়বে না সেটা কে বলতে পারে?
এবার রাজশাহীতেই বৈশাখের ঝড়-বৃষ্টি-শিলে প্রায় ২ হাজার বিঘা বোরো আবাদ আক্রানৱ হলেও ৰতিগ্রসৱ হয়েছে ১ হাজার বিঘার ধান। এ খবর কৃষি বিভাগের। এটাকেই আগাম সতর্কসংকেত হিসেবে ধরাই যুক্তিযুক্ত হবে।

Leave a Reply