বোরোতে স্বপ্নভঙ্গ রাজশাহীর চাষিদের

15/05/2018 1:10 am0 commentsViews: 23

কাজী নাজমুল ইসলাম: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার রাজশাহীতে বৈশাখ মাসে রেকর্ড পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টিতে ভেসে গেছে রাজশাহীর বোরো চাষিদের স্বপ্ন। এখন তারা লাভের জায়গায় লোকসান গুণছেন।
বোরো চাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুর্ব থেকে বোরো আবাদ ভালো থাকায় এবার রাজশাহীতে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছিল। সরকার আগাম ধানের দর নির্ধারণ করায় চাষিদেরও ছিল লাভের স্বপ্ন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশাখ মাসে গত ১০ বছরের মধ্যে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ভেঙ্গে গেছে সেই স্বপ্ন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে এবার বৈশাখ মাসে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২শ’ মিলিমিটারের উপরে। কৃষিবিভাগ বলছে খরা প্রবণ রাজশাহীতে বৈশাখ মাসে এতো বৃষ্টির রেকর্ড নাই। এই বৃষ্টির সাথে কালবৈশাখী ঝড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকার বোরো আবাদ। কোন কোন এলাকায় শিলার কারণে ধান ঝরে গেছে। বর্তমানে অনেক ধানের জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে পারছেন না চাষিরা। তার উপরে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। অন্যান্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দাম দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। জমিতে কাদা-পানির কারণে ধান কাটা- ঝাড়ার জন্য আধুনিক যান্ত্রিক মেশিন কোন কাজে আসছে না। এই অবস্থায় লাভ তো দূরের কথা, কি পরিমাণ লোকসান হবে, এই অঞ্চলের বোরো চাষিরা সেই হিসাব করছেন।
পবার কর্নহার এলাকার কৃষক জাইদুর রহমান ২৩ বিঘায় এবং বিলনেপাল পাড়ার কৃষক নুর্বল আমিন সাড়ে ৫ বিঘায় বোরো আবাদ করেছেন। তারা বলেন, ঝড় ও শিলার কারণে তাদের এলাকার বোরো ধান পড়ে গেছে ও কিছু ঝরে গেছে। এরপর দফায় দফায় বৃষ্টিতে ধানের জমিতে পানি জমে গেছে। এখন এসে শ্রমিক সংকটে তারা ধান কাটতে পারছেন না। যারা কষ্ট করে অধিক মজুরি দিয়ে ধান কেটেছেন, তারা যা আশা করেছিলেন তার চেয়ে অনেক কম ধান পাচ্ছেন। এই কাঁচা ধান কম দামে বিক্রি করে অনেকে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করছেন। তারা বলেন, বোরোতে লাভের আশা করা হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখন এসে তাদেরকে লোকসান গুণতে হচ্ছে।
চাষিরা বলছেন, বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় এলাকার উন্নয়নে শতশত শ্রমিক সরকারের কর্মসৃজন কর্মসূচিতে কাজ করছে। এই দুর্যোগ মুহূর্তে বোরোতে শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় সরকার এই শ্রমিকদের বোরো চাষিদের সহায়তায় কাজে লাগাতে পারে।
কৃষিবিভাগ বলছে, ইতিমধ্যে চাষিরা ৫০ ভাগ বোরো আবাদ ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি গুলো এখনও মাঠেই রয়েছে। ধানের খড় রৰা ও বৃষ্টি কমার দিকে না তাকিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাঠ থেকে ধান তুলে নেবার জন্য কৃষিবিদরা চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার রাজশাহীতে বোরো চাষের লৰমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৬ হাজার ২১২ হেক্টর। আবাদ হয়েছিল ৬৯ হাজার ২০৫ হেক্টরে। গত বছর বোরোর আবাদ হয়েছিল ৬৭ হাজার হেক্টরে। ধান-চালের দাম ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৫ হাজার বিঘা। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে বৈশাখ মাসের শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ২ হাজার বিঘা আক্রান্ত হলেও ১ হাজার বিঘা জমির বোরো ধানের ৰতি হয়েছে।

Leave a Reply