রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতাকে সংবর্ধনা

13/05/2018 1:06 am0 commentsViews: 45

স্টাফ রিপোর্টার: র্ববিয়া বেগম একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরে আওয়ামী লীগের নারী কর্মী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুর্ব হলে র্ববিয়া নাটোরের রানী ভবানী মহিলা কলেজ মাঠে অস্ত্র চালানোর প্রশিৰণ নেন। এরপর অংশ নেন সম্মুখ সমরে। একাত্তরের বিজয়লগ্নে ২ ডিসেম্বর নাটোরের বালিয়াডাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করে রাজাকার আর হানাদার বাহিনী।
র্ববিয়া বেগমকে সে ক্যাম্প থেকে পাকবাহিনী ফুলবাগান ডিভিশন ক্যাম্পে তুলে নিয়ে যায়। ১৫ দিন ধরে তার ওপর চালানো হয় অমানষিক নির্যাতন। ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনী ক্যাম্প ছেড়ে পালালে বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান র্ববিয়া। তারপর ঘরে ফিরে গেলেও স্বামী আর তাকে গ্রহণ করেননি। তবে আশ্রয় দিয়েছিলেন শাশুড়ি।
র্ববিয়া বাড়িতে অন্যের ধান ভেঙ্গে দিয়ে জীবন চালিয়েছেন। ছেলে-মেয়েদের বড় করেছেন। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের সংরৰিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। এখন জনসচেতনতামূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুর্ব করা নারী হিসেবে এ বছর রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন র্ববিয়া।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি র্ববিয়ার হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা ও সনদপত্র তুলে দিয়ে তাকে সংবর্ধনা জানান। এ সময় আবেগে কেঁদে ফেলেন র্ববিয়া। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সেদিন আমাকে স্বামী-সমাজ গ্রহণ করে নাই। রাষ্ট্রও এতোদিন স্বীকৃতি দেয়নি। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতি দিয়েছেন। আজ পেলাম সম্মান। এই সম্মান আমাকে স্বাবলম্বী করলো। সব-দুঃখ কষ্ট মুছে গেল। মনে হচ্ছে- আজ আমি গ্রহণযোগ্য।’
নাটোর সদর উপজেলার কামারদিয়াড় গ্রামের বাসিন্দা র্ববিয়া বেগম। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী সরকারি কমিউনিটি সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে অন্য চার ক্যাটাগরিতে বিভাগের আরও চার নারী শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হন।
এর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন নাটোর সদরের চাঁদপুর পূর্বপাড়া গ্রামের র্ববিনা খাতুন, চাকরিৰেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মালৱাপাড়া গ্রামের অনামিকা ঠাকুর, সফল জননী হিসেবে রাজশাহী নগরীর নামোভদ্রা মহলৱার আনোয়ারা খাতুন এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় নগরীর কাজলা এলাকার কল্পনা রায় ভোমিক জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি তাদেরও সংবর্ধনা জানান।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে পাঁচ বিষয়ে অবদানে নারীদের জয়িতা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, তার প্রতিটি বিষয়ই প্রতিটি নারীর জন্য অনুকরণীয়। নারীকে তার অধিকার দিতে হবে। তাহলেই নারীরা সমাজকে এগিয়ে নিতে পারবেন। নারীর অধিকার বুঝিয়ে দিলে তাকে কেউ আটকাতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী রওশন আক্তার। বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে নওগাঁর সাবেক সংসদ সদস্য শারমিন মনোয়ারা হক, জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের, সমাজসেবী শাহীন আক্তার রেণী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পৰ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলৰে তৃণমূলের সংগ্রামী নারীদেরকে আত্মশক্তিতে উজ্জীবিত করতে গেল কয়েক বছর ধরে সারাদেশে জয়িতা নির্বাচিত করে আসছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর। এবার বিভাগীয় পর্যায়ের এ পুরস্কারের জন্য বিভাগের আট জেলা থেকে ১০ নারীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
সংবর্ধনা প্রদানের আগে সকালে তাদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ পাঁচ নারীকে নির্বাচিত করেন বিচারকরা। দুপুরে তাদের সংবর্ধনা জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় শ্রেষ্ঠ জয়িতারা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। কেঁদে ফেলেন কেউ কেউ। বর্ণনা করেন নিজের সারাজীবনের সংগ্রামের কথা। তাই এই সম্মান নিজের কাছে শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে অভিহিত করেন তারা।

Leave a Reply