ভারতে ধুলিঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৫, আরও ঝড়ের আশঙ্কা

05/05/2018 1:04 am0 commentsViews: 24

এফএনএস আনৱর্জাতিক: ভারতের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ ধূলিঝড়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এর মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও রাজস’ানে আগামি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবারও ধুলিঝড় আঘাত হানার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দফতর। দুর্যোগ মোকাবিলার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন অনৱত ২০ বছরের মধ্যে এ ধরনের ঝড়ে এত বেশি সংখ্যক প্রাণহানি হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩ মে) বেশিরভাগ প্রাণহানি হয়েছে বজ্রপাতে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার প্রবল ধুলিঝড়ে উত্তরপ্রদেশ ও রাজস’ানের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উচ্চ গতির বাতাস আর বজ্রপাতে অনেক গ্রাম বিধ্বসৱ হয়েছে, দেয়াল ভেঙে পড়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশেও ঝড়ে প্রাণহানি হয়েছে। ধুলিঝড়ে উত্তরপ্রদেশের আগ্রা শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রসৱ হয়েছে। আর রাজস’ানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রসৱ হয়েছে ঢোলপুর জেলা। ভারী বৃষ্টিতে দানা মান্ডিতে রাখা কৃষকদের গম নষ্ট হয়ে গেছে। কারণ, ফসল ঢাকা দেওয়ার মতো জিনিসপত্র কৃষকদের কাছে ছিল না। কৃষকরা ক্ষতিপূরণ ও ফসল সুরক্ষার সরঞ্জামের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে মান্ডিগুলি থেকে তারা ফসল সরিয়ে নিয়ে যেতেও চাইছেন।
আবহাওয়াবিদ হিমাংশু শর্মা এবিপি আনন্দকে বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজস’ানে হাওয়ার গতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ফের ধুলিঝড় হতে পারে। ঝড়ে উত্তরপ্রদেশ ও রাজস’ান সীমানৱবর্তী অঞ্চল ক্ষতিগ্রসৱ হতে পারে। বিশেষ করে করৌলি ও ধোলপুর অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।’
নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪ লাখ রম্নপি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে উত্তর প্রদেশ সরকার। রাজস’ানে দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ বিতরণ সংক্রানৱ সচিব হেমনৱ গেরা বিবিসিকে বলেন, ‘আমি ২০ বছর ধরে দায়িত্বে আছি। আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ পরিসি’তি এটি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৩ মে) বেশিরভাগ প্রাণহানি হয়েছে বজ্রপাতের কারণে। ভারতে প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ২০১৪ সালে ২,৫৮২ জন এবং ২০১৫ সালে ২,৬৪১ জন মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে।

 

Leave a Reply