কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের জন্য-

22/04/2018 1:04 am0 commentsViews: 12

রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলকে শস্য ভা-ার বলা হয়ে থাকে। কৃষি উৎপাদনের ৰেত্রে বিপৱব ঘটলেও এখানে শিল্পায়নের অভাবে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান হয়নি। ফলে বেকারত্ব বেড়েছে। সমাজে বৈষম্য, বিশৃঙ্খলাও বেড়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে শিল্পায়ন জর্বরি হয়ে উঠেছে। গত কালের সোনালী সংবাদে বিষয়টি নিয়ে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
রাজশাহীর মত পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে শিল্পায়নের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনা অপরিহার্য। সাধারণত শিল্প বিকাশের স্বার্থে ৫ থেকে ১০ পার্সেন্ট পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হয়ে থাকে। প্রণোদনা পাওয়া গেলে রাজশাহীও দ্র্বতই শিল্পোন্নত এলাকায় পরিণত হবে সন্দেহ নেই। কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের সম্ভাবনাই উজ্জ্বল।
এর মধ্যেই পাটশিল্প কিছুটা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। এক পবা উপজেলাতেই বেসরকারিভাবে স্থাপিত হয়েছে ছোট-মাঝারি ৪-৫টি জুট মিল। দেশের বড় বড় জুটমিল বন্ধ হয়ে গেলেও রাষ্ট্রায়ত্ত রাজশাহী জুট মিল চলছে ভালোভাবেই। পাট ছাড়াও এ অঞ্চলে আখ, রেশম, আমসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠতে শুর্ব করেছে।
রাজশাহী বিসিকে এ পর্যন্ত খাদ্য ও খাদ্যজাত ৬৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে রেশম শিল্পের সম্ভাবনাও এখানে প্রচুর। তবে প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে এৰেত্রে গতি সঞ্চার হচ্ছে না। এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী রেশম কারখানাটি বন্ধ থাকায় সুতার অভাবকেই এ জন্য দায়ি করা হচ্ছে। বিদেশি সুতার ওপর নির্ভর করে বিসিকে স্থাপিত হয়েছিল ৭৬টি রেশম কারখানা। কিন্তু সুতার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও নিম্নমানের কারণে এখন সে সংখ্যা ১২ তে নেমে এসেছে। অথচ প্রাচীনকাল থেকেই রেশমের জন্য রাজশাহীর নাম ছিল। রেশম কারখানার মত রাজশাহী টেঙটাইল মিলটিও বন্ধ হয়ে ছিল। এখন এসব কারখানা চালু করার উদ্যোগ বেশ চোখে পড়ে। রেশম কারখানায় পরীৰামূলক উৎপাদন হওয়ার খবর সবাইকে আশাবাদী না করে পারে না।
রাজশাহী অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পের কাঁচামালের অভাব হবে না। তাছাড়া এখানে সস্তা শ্রমেরও অভাব নেই। প্রয়োজনীয় প্রণোদনা পাওয়া গেলে, জ্বালানি ও যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হলে এখানেও শিল্পায়নে গতি আসবে। এ জন্য নীতি নির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক-সামাজিক-ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের সক্রিয় ভূমিকাই সবার কাম্য।

Leave a Reply