কোটা সংস্কার : মামলা প্রত্যাহারের দাবির পর তিন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ

17/04/2018 1:02 am0 commentsViews: 8

এফএনএস: সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে দুই দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেওয়ার পর তাদের ধরে নিয়ে ‘জিজ্ঞাসাবাদ করে’ ছেড়ে দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলনকারীরা গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন’াগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও উপাচর্যের বাসভবনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা সব মামলা দুই দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে আবার রাজপথে নামবেন তারা। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর-পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে পরিষদের তিন যুগ্ম আহ্বায়ক নূরম্নল হক নূর, ফারম্নক হাসান, মুহম্মদ রাশেদ খানকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। পরে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, তাদের তদনেৱর প্রয়োজনে নিয়ে আসা হলেও জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ‘সহিংসতার’ ঘটনায় যেসব তথ্য উপাত্ত পুলিশ পেয়েছে, সেগুলো যাচাই বাছাই করার জন্যই ওই তিন-জনকে তারা ‘নিয়ে’ গিয়েছিলেন। ভিসির বাসায় যে হামলা হয়েছিল, এই ঘটনায় যেসব ভিভিও ফুটেজ পেয়েছি সেগুলো যাচাই বাছাই করার জন্য তদনেৱর প্রয়োজনে তাদের ডেকে এনেছিলাম। তারা চলে গেছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন’াগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নুরম্নল হক নূর বলেন, আন্দোলনরত হাজারও শিক্ষার্থীর বিরম্নদ্ধে যে ভিত্তিহীন মামলা দেওয়া হয়েছে, আগামি দুই দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে এ দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে আবারও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরই এ আন্দোলনের নেতৃত্বে দিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এই আন্দোলন যারা করেছে, তাদের হয়রানি করবেন না। যদি তাদের হয়রানি করা হয়, তাহলে আমরা আবারও আন্দোলন করব। এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা দাবি করেছেন, গোয়েন্দা পুলিশ তাদের চোখ বেঁধে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ না করেই ছেড়ে দিয়েছে। এ ঘটনাকে ‘অপহর’ণ হিসেবে বর্ণনা করে গতকাল সোমবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করার ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীদের পস্ন্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরম্নল হক নূর দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিশ্ববিদ্যা-লয়ের গ্রন’াগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা ন্যায়ের পথে আন্দোলন করেছি, কিন’ পুলিশ আমাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। নানাভাবে আমাদের হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা নিরাপদ বোধ করছি না। ডিবি অফিস ঘুরে এসে দুপুরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন’াগা-রের সামনে আবার সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বর্ণনা দেন আন্দোলনের নেতারা। সেখানে জানানো হয়, বেলা ১টা ২৫ মিনিটে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তিন যুগ্ম আহ-্বায়ককে ঢাকা মেডিকেলের জরম্নরি বিভাগের সামনে থেকে ‘ধরে নিয়ে যায়’ ডিবি পুলিশ। যুগ্ম আহ্বায়ক নুরম্নল হক নূর বলেন, আমরা মেডিকেলে ভর্তি শিক্ষার্থীদের দেখে যাওয়ার সময় জরম্নরি বিভাগের সামনে থেকে ৩/৪টি মোটর সাইকেল এবং দুটো কালো কাচওয়ালা মাইক্রোবাস সেখানে আসে। রিকশা থামিয়ে টানা-হেঁচড়া করে তারা আমাদের মাইক্রোবাসে তুলে ফেলে। নূর বলছেন, মাইক্রোবাসে তোলার পর প্রথমে তাদের হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয়। গুলিসৱান এলাকায় নিয়ে ‘গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে’ ফেলা হয়। গাড়ি থেকে নামিয়ে চোখ খোলার পর তারা বুঝতে পারেন, তারা আছেন ডিবি কার্যালয়ে। পুলিশ আমাদের বলেছে, কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানোর জন্য তারা আমাদের তুলে নিয়েছে। পরে তারা আমাদের কিছুই দেখায়নি। নাম জিজ্ঞেস করে, দরকার হলে পরে ডাকা হবে বলে ছেড়ে দিয়েছে। ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুহম্মদ রাশেদ খান বলেন, আমার বাবাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঝিনাইদহ সদর থানায় আমার বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে। আমার দিনমজুর বাবাকে থানায় আটকে রেখে বিশ্রী ভাষায় গালাগাল করা হচ্ছে। আমার শিবির সংশিস্নষ্টতা প্রমাণের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের এই শিক্ষার্থী বলেন, আমার পদ-পদবি নেই, তাই বলে কি আমি ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে পারব না? আমার বাবার কি অপরাধ ছিল? সাংবাদিক-দের প্রশ্নে রাশেদ জানান, তার বাবার নাম মোহাম্মদ নবাই বিশ্বাস।

Leave a Reply