ফসলি জমিতে ইটভাটা বন্ধ হোক

17/04/2018 1:04 am0 commentsViews: 14

ইটভাটা নির্মাণে কোনো নিয়মনীতির বালাই আছে বলে মনে হয় না। ফসলি জমিতে নির্মিত ভাটায় ইট পোড়ানোর ফলে নানাবিধ ৰতি হলেও তা দেখার গরজ দেখা যায় না কারও। ফলে ইটভাটা মালিকদের দৌরাত্ম্য কতটা বেড়ে গেছে তার সাম্প্রতিক প্রমাণ নওগাঁর মান্দায় পাকা ধানের জমি পুড়ে ছারখার হওয়ার ঘটনা।
গতকালের পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, মান্দা উপজেলার মলিৱকপুর-শ্রীরামপুর মাঠে ইটভাটার গ্যাসে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে শতাধিক বিঘা জমির পাকা বোরো ধান। এ ছাড়া ভাটার গ্যাসে আশপাশের আমসহ মৌসুমি ফলের গাছপালাও চরম ৰতি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এমপি ও বস্ত্র-পাটমন্ত্রী ৰতিগ্রস্ত মাঠ দেখে জর্বরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় প্রশাসন নড়ে চড়ে বসেছে। ঘটনার তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠনের কথাও জানা গেছে।
অথচ ফসলি জমিতে ইটভাটার নানাবিধ ৰয়ৰতি জানা সত্ত্বেও কীভাবে এগুলি পরিচালিত হচ্ছে সে প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় না। এর ফলে ফসল, গাছপালার ৰতি ছাড়াও পরিবেশ দূষিত হয়ে জনস্বাস্থ্যেরও ৰতি হয়, সেটা সবারই জানা। আর ইট তৈরিতে জমির ওপরের নরম মাটি কেটে নেওয়ায় জমিও উর্বরতা হারাচ্ছে। তারপরও কীভাবে ফসলি জমিতে ইটভাটার অনুমোদন পাওয়া যায় সেটা চিন্তার বিষয়। না-কি বিনা অনুমতিতেই বিশেষ ব্যবস্থায় সংশিৱষ্টদের ম্যানেজ করে সবার নাকের ডগায় চলছে অসংখ্য ইটভাটা?
মান্দার ঘটনায় মন্ত্রীর তাৎৰণিক হস্তৰেপে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান বেরিয়ে আসবে আশা করা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভাটা মালিক ৰতিগ্রস্তদের ৰতিপূরণের উদ্যোগ নিলেও এতে করে যে সমস্যার সমাধান হবে না সেটা সবাই বুঝে। ফসলি জমিতে ইটভাটা বন্ধ এবং উপযুক্ত স্থানে ইটভাটার অনুমোদন দেওয়া নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনার শেষ হবে না।
তাছাড়া সবকিছু দেখে শুনে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেওয়ার ৰতি পুষিয়ে দিতে আর্থিক ৰতি পূরণই যে যথেষ্ট নয় সেটাও ভুলে গেলে চলবে না। এই ঘটনায় দায়ি ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও দেখতে চায় মানুষ। পরিবেশ, কৃষি ও কৃষকের ৰতি করে ব্যক্তিগত ফায়দা লোটা বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থার বিকল্প আছে বলে আমাদের জানা নেই।

Leave a Reply