রাজশাহীতে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ

16/04/2018 1:09 am0 commentsViews: 65

স্টাফ রিপোর্টার: সামপ্রদায়িকতা র্বখে দেওয়ার প্রত্যয়ে বর্ণিল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের এবং ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গত শনিবার রাজশাহীতে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন করা হয়েছে।
বর্ষবরণে রাজশাহী জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন শিৰা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। নবীন-প্রবীণ সবাই সার্বজনীন এই উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে উঠে।
রাজশাহী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মহানগরীর আলুপট্টি থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রায় রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনসহ জোটের নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুর্ব হয়ে রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুলে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলাও শুর্ব হয়।
শোভাযাত্রায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান, সংরৰিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম আখতার জাহান, জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) মাসুদুর রহমান ভূইয়া, জেলা পুলিশ সুপার শহিদুলৱাহসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাঙালি প্রাণের উৎসব হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ একাত্ম হয়ে দিনটি পালন করছে।
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দিনটিকে আরও বেশি তাৎপর্যময় করতে দুই বছর থেকে নববর্ষ ভাতা প্রদান করছেন। এতে করে আরো বেশি উৎসাহ ও আনন্দ নিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে বর্ষবরণের এই দিনটিকে প্রাণভরে উপভোগ করতে পারছেন।
কখনো কখনো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মাধ্যমে এ উৎসবকে মৱান করার অপচেষ্টা করা হয়েছে উলেৱখ করে বক্তারা বলেন, অকুতোভয় বাঙালি জাতি সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ দিবসটি উদযাপন করতে আজ এবং আগামীতেও পিছপা হবে না।

এদিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবার, শিশু সদন (এতিম খানায়) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। শিশু পরিবারে শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কারাবন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যাদির প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়।
এদিন রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, শহীদ এএইচএম কামর্বজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখান এবং জিয়া পার্ক সর্বসাধারনের জন্য বিনা টিকেটে উন্মুক্ত রাখা হয়।
বৈশাখের অনুষ্ঠানে যেনো কেউ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। যেসব স্থানে বৈশাখের অনুষ্ঠান চলছে সেসব স্থান নজরদারীর মধ্যে রাখা হয়। এছাড়া পদ্মার তীরসহ বিভিন্ন বিনোদন স্পটে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর এবং বিশেষ করে বিকেলে পুরো পদ্মার বাঁধ লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ে।
রাসিক
বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন উপলৰে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগর ভবন হতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্‌ মোমিনের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে গিয়ে জেলা প্রশাসনের শোভাযাত্রায় মিলিত হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদৰিণ শেষে রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় রাসিকের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
রাজশাহী বার
নব-বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজশাহী এডভোকেট বার সমিতির উদ্যোগে ১ বৈশাখ সমিতির হল র্বমে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমিতির সভাপতি লোকমান আলীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সমিতির সাধারন সম্পাদক একরামুল হক, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এড. মোঃ ইয়াহিয়া, এড. হামিদুল হক প্রমুখ। সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় “ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কাল-বোশেখীর ঝড়” শেৱাগানকে সামনে রেখে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন করেছে। চৈত্রসংক্রান্তির মাধ্যমে ১৪২৪ সনকে বিদায় জানিয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হয়েছে নতুন বছর ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। জীর্ণ, অশুভ, অসুন্দর সব কিছু পিছনে ফেলে নতুনের কেতন ওড়িয়ে বাঙালি বরণ করে এই দিনকে।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা ভবন থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। ফেস্টুন, পৱ্যাকার্ডসহ বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রাটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রধান ফটক হয়ে আবার কাজলায় ফিরে আসে। শিৰার্থীরা নানা ধরনের শেৱাগান দিয়ে শোভাযাত্রাটি আরো প্রাণচঞ্চল করে তোলে। শোভাযাত্রা শেষে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম. সাইদুর রহমান খান, উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ওসমান গনি তালুকদার, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নূর্বল হোসেন চৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. তারিক সাইফুল ইসলাম, জার্নালিজম কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের কো-অর্ডিনেটর মশিহুর রহমান, প্রক্টর শাহরিয়ার হোসেন তালুকদার প্রমুখ।
নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এনবিআইইউ) উৎসাহ উদ্দিপনা ও নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪২৫ উদযাপন করা হয়েছে। নববর্ষ বরণ উপলৰে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে নগরীর আলুপট্টিস্থ ইউনিভার্সিটির সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
বাঙালির ঐতিহ্য হাত পাখা, হাতি, কুলাসহ বর্ণিল শোভাযাত্রাটি আলুপট্টি মোড় থেকে শুর্ব করে নগরীর সাহেব বাজার, সোনাদিঘির মোড় হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদৰিণ করে একইস্থানে এসে শেষ হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু চত্বরে মনোঙ্গ সাংকৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরেণ্য কথাসাহিত্যিক ও কবি অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক। এ সময় অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক বলেন, পহেলা বৈশাখ হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধরে আছে। কাল, সত্ত্বা, অনুভব, অনুভূতি দিয়ে একে আমরা ধারণ করব। বরণ করব। বৈশাখ সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ জীবনে নানা আঙিকে নানা উৎসবে পালিত হোক। সব অশুভ ও অসন্দুরকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাক এই প্রত্যাশা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশিষ্ট শিৰাবিদ, কলামিষ্ট ও গবেষক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক বলেন, বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি উৎসব আয়োজনে আবহমান সংস্কৃতির চেতনায় হৃদ্ধ বাঙালিরা পাকিস্তানীদের কাছে হার মানে নি। পাকিস্তানিরা বাংলা ভাষা, বঙ্গবন্ধু, শহিদ মিনারকে ভয় পেয়ে তা ভেঙে দিয়েছে। তিনি এ নববর্ষকে অত্যন্ত সততার সাথে পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের শিৰার্থীরা বঙ্গবন্ধু চত্বরে বর্ষবরণ উপলৰে পান্তা-ইলিশসহ হরেক রকম বাঙালি খাবার নিয়ে বৈশাখী স্টল দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনবিআইইউ’র উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল জলিল, ট্রেজারার প্রফেসর অবায়দুর রহমান প্রমানিক, রেজিস্ট্রার রিয়াজ মোহাম্মদ, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম ওয়াজেদ আলী, প্রফেসর আব্দুর রউফ, পরীৰা নিয়ন্ত্রক জোনাব আলী, প্রক্টর ড. আজিবার রহমান, সহকারী প্রক্টর আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ। বিভিন্ন বিভাগের শিৰার্থীরা অনুষ্ঠানে গম্ভীরা, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
রাজশাহী শিৰা বোর্ড
বাঙালি জাতির গৌরব ও অহংকার বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন উপলৰে রাজশাহী শিৰা বোর্ড আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান রাজশাহী শিৰা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন- বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির গর্ব ও ঐতিহ্য।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী শিৰা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর আকবর হোসেন, বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর দেবাশীষ রঞ্জন রায় ও উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীৰা) বাদশা হোসেনসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি রাজশাহী শিৰা বোর্ড চত্বর থেকে শুর্ব হয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট প্রদৰিণ করে রাজশাহী শিৰা বোর্ডে ফিরে প্রাণবন্ত আলোচনান্তে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়। নববর্ষ উদ্‌যাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর দেবাশীষ রঞ্জন রায় অন্যান্য সদস্যগণের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন।
মডেল স্কুল এন্ড কলেজ
রাজশাহী মডেল স্কুল এন্ড কলেজে বাংলা নববর্ষ-১৪২৫ উদযাপন উপলৰে শিৰক, কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিভাবক ও শিৰার্থীর সমন্বয়ে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুর্ব হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদৰিণ শেষে কলেজ ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়।
র‌্যালি শেষে শিৰার্থী ও অভিভাবক এবং শিৰক-কর্মচারীদের মাঝে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়। পরে শিৰার্থী, শিৰক ও অভিভাবকরা আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিলিত হন। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত বেতার, টিভি, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা আব্দুল আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যৰ হাবিবুর রহমান।

Leave a Reply