মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবি

14/04/2018 1:04 am0 commentsViews: 38

এফএনএস: সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সনৱানরা। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিৰোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান তাঁরা। কোটা বাতিলের সরকারি সিদ্ধানৱ পুনর্বিবেচনার দাবি জানানোর পাশাপাশি রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সনৱানরা যাতে সরকারি চাকরিতে ঢুকতে না পারে, সে ব্যবস’া দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। আন্দোলনকারীদের ভুল বুঝিয়ে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নামানো হয়েছে-এমন মনৱব্য করে তাঁরা অভিযোগ করেন, এই আন্দো-লনে ইন্ধন জুগিয়ে অসি’তিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল চক্রানৱকারীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে হামলাকারীদের বিচারের দাবিও জানান মুক্তিযোদ্ধার সনৱানরা। সমপ্রতি কোটা সংস্কারের দাবিতে শিৰার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেৰিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতি-লের ঘোষণা দেন। এরপর বিৰোভ-রত শিৰার্থীরা আন্দোলন স’গিত করেন। এদিকে, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধানৱ প্রত্যাহার এবং সামাজিক যোগা-যোগের মাধ্যমে ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটাৰকারীদের’ বিরম্নদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে ব্যবস’া নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সনৱান’ এর একাংশ। সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, কোটা বাতিলের জন্য যারা আন্দোলন করেছেন তাদের মধ্যে যারা মুক্তি-যুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তি, তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নিতে হবে। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের কটাৰ করে যাচ্ছেন, তাদের বিরম্নদ্ধে আইসিটি আইনে ব্যবস’া নিতে হবে। সরকারি চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা সংরৰণের যে নিয়ম বর্তমানে চালু রয়েছে, তার মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সনৱানদের জন্য বরাদ্দ। যারা কোনো কোটা শ্রেনিতে পড়েন না, তাদের বাকি ৪৪ শতাংশ পদের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হওয়ায় মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে অভিযোগ করে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছিল শিৰার্থী ও চাকরি-প্রত্যাশীরা। তাদের দাবি ছিল মোট কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। তাদের ওই আন্দোলনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে নিয়োগের কোটা পদ্ধতি একেবারেই তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। বুধবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, বারবার এই আন্দোলন ঝামেলা মেটাবার জন্য কোটা পদ্ধতি বাতিল; পরিষ্কার কথা; আমি এটাই মনে করি, সেটা হল বাতিল। তাদের ওই আন্দোলনে বিভিন্ন পস্ন্যাকার্ডে মুক্তিযোদ্ধা কোটার দিকে ইঙ্গিত করেও বিভিন্ন সেস্নাগান লেখা দেখা যায়, যা নিয়ে ৰোভ প্রকাশ করে আসছেন মুক্তিযোদ্ধা আর তাদের সনৱানেরা। হুমায়ুন কবির মুক্তি-যোদ্ধাদের বিরম্নদ্ধে কটাৰকারীদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নিতে বিশেষ আইন প্রণয়ন এবং সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা সনৱানদের কোটা বাতিল না করার দাবি জানান মানববন্ধনে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু এই মানববন্ধনে বলেন, মুক্তি-যোদ্ধার সনৱানরা সব সময় শেখ হাসিনার সাথে ছিল, ভবিষতেও থাকবে। কোটা বাতিল নিয়ে ষড়-যন্ত্রকারীরা নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে সফল হয়েছে। এখন একটি অধ্যা-দেশের মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস’ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সনৱানদের কোটা ব্যবস’া বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি। তিনিও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রৰায় আইন করার দাবি জানান সরকারের কাছে। ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সনৱান’- এর নেতা শাহিনুল করিম বাবু বলেন কোটা বাতিলের আন্দোলনের নামে অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করছেন। এই অপমান একদিন আপনাদের কাছে ফিরে যাবে। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সনৱানদের যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটাৰ করেছেন, তাদের বিরম্নদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করতে হবে। অন্য-দের মধ্যে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এমদাদুল হক, ঢাকা মহানগর সভাপতি নুরম্নজ্জামান ভুট্টো, মুক্তি-যোদ্ধা আমির হোসেন মোলস্না, সং-গঠনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি এনামুল হক কাজল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

Leave a Reply