বাঙালির প্রাণের উৎসব আজ

14/04/2018 1:07 am0 commentsViews: 22

স্টাফ রিপোর্টার: বছর পরিক্রমায় আবার এলো বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রাণের উৎসব। অসামপ্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসব। বিগত বছরের সমস্ত গৱানি, জরা, ব্যর্থতা আর হতাশা ভুলে নতুন একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির বছরকে বরণ করে নিচ্ছে বাঙালি।
গতকাল চৈত্র সংক্রান্তির মধ্যে দিয়েই বিদায় নিয়েছে বাংলা ১৪২৪ খ্রিষ্টাব্দ। আজ সূর্যদয়ের সাথে সাথে শুর্ব হয়েছে ১৪২৫। তাকে স্বাগত। নতুন বছরের শুর্বতে সারা দেশে আনন্দে মেতেছে মানুষ। ভোরে নতুন একটি সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুর্ব হয়েছে নানা স্থানে, নানা মাত্রায় বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য বর্ষবরণের উৎসব।
জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে আজ সম্ভাবনার নতুন বছরে প্রবেশ করল বাঙালি জাতি। সকালে ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দিয়েছে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁরা।
কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুর্ব মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসন ভিত্তি করে প্রবর্তন হয় নতুন এই বাংলা সন। ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।
পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসামপ্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বির্বদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার্বকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।
সমাজের নানা ক্ষেত্রে এ দিবসের একটি প্রভাব ইতিমধ্যে উলেৱখযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এই উৎসব দেশের অর্থনীতির চলমানতাকে অনেকটা সমৃদ্ধ করে তুলছে। এই উৎসবে দেশের প্রায় সব স্তরের মানুষ দেশিয় পণ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী হওয়ায় তা গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে একেবারে শহুরে অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করে।
শুধু পোশাকে নয়, নববর্ষের দিন বিভিন্ন দেশিয় খাবারের আয়োজন করে থাকে নামীদামি হোটেল-রেস্তারাঁগুলোও। এতে ক্রেতাদের আগ্রহও কম নয়। সবকিছু মিলিয়ে পহেলা বৈশাখের এই উৎসব ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই উৎসব বাঙালির জাতিসত্তার উৎসব।
একটি অসামপ্রদায়িক উৎসব। জাতি হিসেবে আমরা যে বাঙালি, সমপ্রদায়গত দিক থেকে যে যে ধর্মেরই হোক না কেন, এই চেতনা সমুন্নত করে পহেলা বৈশাখের এই উৎসব। এই উৎসবেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশ গ্রহণ করে। সামাজিক, অর্থনৈতিক প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশ আজ অনেক অগ্রসর হয়েছে।
তবে চেতনা ও মানবিকতার দিক থেকে সমাজ যে দিনদিন পিছিয়ে পড়ছে তা অনেককে ভাবিয়ে তুলছে ইদানিং। সমাজে কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, সামপ্রদায়িকতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য পহেলা বৈশাখের চেতনায় সমাজে শুভবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। মানবতার শিক্ষা বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে সহনশীলতার চর্চাও।

Leave a Reply