প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সময়োপযোগী

13/04/2018 1:04 am0 commentsViews: 9

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন নতুন করে দেশজুড়ে উচ্চশিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছিল। তার আগে আন্দোলনকারীরা মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের পর এক মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিত করলেও সবাই তা মানতে পারেনি। সংসদে ও বাইরে এ নিয়ে কথা- বার্তা নতুন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন ক্যাম্পাস, এমনকি রাজপথও অচল করে দেয়। এর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনা আগুনে ঘি ঢালার মত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী সংসদে দেওয়া তার বক্তব্যে কোটা পদ্ধতি বাতিল করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। শিৰক বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অভিনন্দিত হয়।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরৰিত থাকা নিয়েই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ৩০ শতাংশ, ৰুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ। শিৰার্থীরা এই কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবি তুলেছিল। এতদিন বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থায় মেধাবীরা চাকরিতে বঞ্চিত হয়ে আসছিল বলেও তারা অভিযোগ তুলেছিল।
চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নতুন নয়। স্বাধীনতার পর কোটা পদ্ধতিতে বিভিন্ন সময় সংস্কারও হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় সেকথা উলেৱখ করে কোটা থাকলেই সংস্কার, না থাকলে সংস্কারের দরকার নেই বলেন। তখন আর আন্দোলনের নামে অচলাবস্থাও হবে না। তবে তিনি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলতে ভুলেননি। কোটা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সংস্কারের সুযোগ থাকার কথা বলেছেন। সরকারি চাকরিতে এখন থেকে মেধার ভিত্তিতেই হবে সব নিয়োগ তবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধী ও ৰুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথাও বলেছেন তিনি। কেবিনেট সেক্রেটারিসহ সংশিৱষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিষয়টির ওপর কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
কোটা সংস্কারের আন্দোলনে শুধু শিৰা প্রতিষ্ঠানই নয়, রাজধানীসহ বিভিন্ন মহানগরী ও রাজপথেও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী ঘোষণা তার অবসান ঘটায়, সর্বত্রই স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সময় থাকতেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া বাঞ্ছনীয় বলেই সবার ধারণা।

Leave a Reply