যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের আহ্বান সিরিয়ার বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নেয়ার

12/04/2018 1:04 am0 commentsViews: 11

এফএনএস আনৱর্জাতিক ডেস্ক : আনৱর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আহ্বান জানিয়েছে, সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটার দৌমা শহরে আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক হামলার জবাবে ব্যবস’া নিতে। পৃথক ফোনালাপে সিরিয়া ইস্যুতে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এতে তিন নেতা দেশটির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তিন নেতার ফোনালাপের পর গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ওপর আনৱর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা’ বহাল রাখতে আনৱর্জাতিক সমপ্রদায়ের উচিত সিরিয়া ইস্যুতে হসৱক্ষেপ করা। ফোনালাপে তিন নেতা এ বিষয়ে একমত হন যে, সিরিয়া সরকারের রাসায়নিক হামলা খুবই নিন্দনীয়। ওই হামলায় রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি যদি নিশ্চিত হয় তাহলে তা হবে নিজ দেশের জনগণের বিরম্নদ্ধে আসাদ সরকারের নিষ্ঠুরতার আরেকটি দলিল। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার না করার আইনি বাধ্যবাধকতা প্রতিও এটি অবজ্ঞাস্বরূপ। পূর্ব ঘৌটার দৌমা শহরে রাসায়নিক হামলার ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়েও একমত হন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতারা। এদিকে আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক হামলার জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন আশঙ্কায় সতর্ক অবস’ানে রয়েছে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস’ানের সমালোচনা করেছে আসাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাশিয়া ও ইরান। দেশ দুইটি বলছে, সিরিয়ায় হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। বিনা জবাবে তারা পার পাবে না। গত মঙ্গলবার সিরিয়ার সামরিক স’াপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স’াপনায় সতর্ক অবস’ান নেয় আসাদ বাহিনীর সদস্যরা। সামরিক ঘাঁটিগুলোতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস’া করা হয়। আল মাসদার নামের সিরিয়ার আসাদপন’ী একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাইপ্রাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ খবরে কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার নৌবহরে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি মিসাইল ডেস্ট্রয়ারও সিরিয়ার উপকূলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত শুক্রবার রাত থেকে গত শনিবার সকাল পর্যনৱ বিদ্রোহী অধ্যুষিত দৌমায় রাসায়নিক হামলা চালায় আসাদ বাহিনী। উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এ হামলায় অনৱত ৮৫ জন নিহতের খবর দিয়েছে আনৱর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস’া হোয়াইট হেলমেট। বিষাক্ত গ্যাস হামলায় প্রাণহানির মুখে দৌমা শহর ছাড়তে রাজি হয়েছে আসাদবিরোধী বিদ্রোহীরা। সরকারি বাহিনী কর্তৃক অবরম্নদ্ধ একটি শহরে বিষাক্ত গ্যাস হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র মানুষষের ওপর এমন হত্যাযজ্ঞে সৱম্ভিত করে দিয়েছে বিশ্বের বিবেকবান মানুষদের। নিন্দা, প্রতিবাদের ঝড় উঠে দুনিয়ার নানা প্রানেৱ। তবে বরাবরের মতোই নিজেদের বিরম্নদ্ধে উঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে আসাদ বাহিনী। এ রাসায়নিক হামলার ঘটনায় গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভা এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বড় ধরনের সিদ্ধানৱ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সিরিয়ায় অমানবিক রাসায়নিক হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। সিরীয় সেনাবাহিনীর হাত অবরম্নদ্ধ এলাকায় এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে। ফলে বাইরের দুনিয়ার সেখানে প্রবেশের কোনও সুযোগ নেই।’ ট্রাম্প বলেন, ‘জন’ আসাদকে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য দায়ী হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন, রাশিয়া ও ইরান। চড়া মূল্য দিতে হবে।’ সিরিয়া ইস্যুতে অধিক গুরম্নত্ব দিতে পেরম্নতে অনুষ্ঠিতব্য লাতিন আমেরিকা সম্মেলনেও অংশ নিচ্ছেন না ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে সিরিয়া ইস্যুতে গভীর মনোযোগ দিতে লাতিন আমেরিকা সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রেসিডেন্ট। উলেস্নখ্য, পূর্ব ঘৌটায় ২০১১ সালে প্রথম সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরম্ন হয়। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে এটাই ছিল বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি। গত এক মাসের লাগাতার হামলার পর সেখান থেকে পালানো শুরম্ন করে বিদ্রোহীরা। ১৮ ফেব্রম্নয়ারি আক্রমণ শুরম্ন করা আসাদ বাহিনী এলাকাটিতে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে তিন অংশে বিভক্ত করে দেয়। তাদের হামলায় তখন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হন। সূত্র: বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি।

Leave a Reply