জীবন রৰাকারী ওষুধের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি!

10/04/2018 1:09 am0 commentsViews: 62

মোহাম্মদ মাসুদ: অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে জীবন রৰাকারী ওষুধের দাম। জর্বরি এ সকল ওষুধ এখন সাধারণের ক্রয়-ৰমতার বাইরে। সক্রিয় হয়ে উঠেছে ওষুধ সি-িকেট। বাজারে ওষুধ প্রশাসন-এর মনিটরিং ব্যবস্থা দীর্ঘদিন থেকে নিস্ক্রিয়। এ কারণে সংশিৱষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মকা- নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. মো: মাসুম হাবিব বলেন, অস্বাভাবিক হারে ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়া জনগণের স্বাস্থ্যখাতের জন্য এটি চরম হুমকি। তিনি বলেন, সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মত বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রতিদিনই ওষুধের প্রয়োজন হয়। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও গরিব রোগীদের ওষুধ ক্রয় করা এখন দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। অবিলম্বে যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে দেশের স্বাস্থ্য সেবা হুমকির মুখে পড়বে এবং ওষুধ উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে। এ কারণে ওষুধ সি-িকেটের বির্বদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও অতিরিক্ত ওষুধ লেখার বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগী একজন সাহেব বাজারের দরিদ্র চা দোকানী বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে তিনি কোমরে ব্যাথা জনিত সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে ওষুধের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় তিনি চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, তার কোমরের ব্যাথার জন্য প্রতিদিন ১২২ টাকার ওষুধ লাগে। এছাড়াও বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবা, সন্তানসহ ৮ জন সদস্য। চা বিক্রি করে প্রতিদিন সংসার চালাতেই হিমশীম খেতে হয়। এ কারণে প্রতিমাসেই ধার- দেনা হয়। তার উপর ওষুধ কিনতে এত টাকা কোথায় পাব? আমাদের গরিবদের ধুকে ধুকে মরা ছাড়া কোন গতি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ড্রাগ এসোসিয়শনের একজন নেতা বলেন, এ ধরনের কর্মকা- সিন্ডিকেট করে করা হয়। এতে ওষুধ প্রশাসনেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়াও দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ড্রাগ এসোসিয়শনের সঙ্গে কোন পরামর্শ করা হয় না। যে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়। সে ওষুধ হঠাৎ করে বাজারে বিক্রয় বন্ধ করে দেয় ওষুধ শিল্প সি-িকেট। এর কয়েকদিন পর বেশি দামে আবারো তারা ওই ওষুধ বাজারে ছাড়ে। এতে করে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হন ওষুধ বেশী দামে কিনতে এবং বিক্রি করতে।
নগরীর বিভিন্ন ওষুধের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান বাজারে ওষুধের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। যেমন- নিউরো-বি (স্কোয়ার) ভিটামিন পূর্বের দাম ১৫০ টাকা বর্তমানে ২৪০ টাকা ৯০ টাকা বেড়েছে, ভিটামিন বেঙিটার্ম গোল্ড পূর্বে ছিল ১৪০ টাকা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ২৪০ টাকা বেড়েছে ১০০ টাকা, হজমের ওষুধ জাইনেট (বেক্মিমকো) এক বঙের দাম ছিল ২০০ টাকা এখন সেটি দাম বেড়ে হয়েছে ৩০০ টাকা, সিভিট (স্কোয়ার কোং) আগে এক বঙের দাম ছিল ৩০০ টাকা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৪৭৫ টাকা অর্থাৎ বঙ প্রতি বেড়েছে ১৭৫ টাকা, কাশির সিরাপ এডোভাস (স্কোয়ার) পূর্বের দাম ৫০ টাকা বর্তমানে ৬০ টাকা, ডায়াবেটিস-এর ট্যাবলেট (স্কোয়ার) সেকরিন-১ এক বঙের দাম ছিল ৩০০ টাকা বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৩৬০ টাকা অর্থাৎ বঙ প্রতি বেড়েছে ৬০ টাকা, সেকরিন-২ প্রতি বঙে ৪০ টাকা বেড়েছে, গ্যাসের ট্যাবলেট নিউটেক বঙ প্রতি বেড়েছে ৯০ টাকা, হাঁপানি জনিত রোগের এ্যাজমাসল (বেঙ্মিকো) ইনহেলার দাম ১৬০ টাকা ছিল এখন বেড়ে ১৯৮ টাকা হয়েছে অর্থাৎ পিস প্রতি ৩৮ টাকা বেড়েছে, হার্টের রোগের ওষুধ এনজিটর-১০ (স্কোয়ার) বঙ প্রতি বেড়েছে ৬০ টাকা, পেশারের ওষুধ বাইজোরান (বেক্মিমকো) বঙ প্রতি বেড়েছে ৬০ টাকা। একইভাবে আরো অন্যান্য কোম্পানির ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু ওষুধের গায়ে সর্ব্বোচ মূল্য বৃদ্ধি (এম.আর.পি) লেখা হয়েছে এবং কিছু কিছু ওষুধের গায়ে সাধারণ স্টিকার মেরে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে নগরীর আয়েশা আকতার নামে একজন শিৰক বলেন, তাঁর স্বামী একজন কলেজ অধ্যৰ এবং অপারেশনের (হার্ট) রোগী। তিনি নিজেও অসুস্থ। প্রতিদিন তার বাড়িতে ওষুধ লাগে ২০০ থেকে আড়াইশো টাকার। তিনি আরো বলেন, ওষুধের দাম বৃদ্ধি করে স্বাস্থ্যখ্যাতকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অনতিবিলম্বে সরকারের হস্তৰেপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
এ ব্যাপারে রাজশাহী ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক আনোয়ার বাসেদ বলেন, যে সকল ওষুধের গায়ে এম.আর.পি লেখা হয়েছে সেগুলো নিয়ে করার কিছু নেই। তবে ওষুধের গায়ে সর্ব্বোচ মূল্য (এম.আর.পি) লেখা না থাকলে তাদের বির্বদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনির্বজ্জামান মনি বলেন, শুধু ওষুধের দাম নয়, নিত্যপণ্য, গৃহনির্মাণ সামগ্রী’সহ প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বেড়েছে। বর্তমান বাজার অস্থিতিশীল। এ ব্যাপারে সংশিৱষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি করা ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply