সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত

10/04/2018 1:10 am0 commentsViews: 28

সোনালী ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, সরকারের এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন আগামী ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে গত রোববার থেকে সারাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তীব্র আন্দোলন হয়। গতকাল সোমবার বিকাল পর্যন্ত এ আন্দোলন চলে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও (রাবি) গতকাল সর্বাত্মক অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন আন্দোলনরত শিৰার্থীরা। সকাল ১০টায় কয়েক হাজার শিৰার্থী বিৰোভ মিছিল করে প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
এর আগে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফটকে অবস্থান নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এ কারণে শিৰার্থীদের বহনকারী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনের কোনো বাস সকালের শিফটে ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়নি। এছাড়া এদিন কোনো বিভাগের ক্লাস হয়নি বলেও জানা গেছে।
এদিকে, সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা ফটকের তালা খুলে দিলেও বাস চলাচল বন্ধ ছিল। পরে বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে বিৰোভ করে ক্লাস বন্ধ রাখার দাবি জানায় শিৰার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঢাকায় একজন আন্দোলনকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন- এমন খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রত্যেক হল থেকে বিৰোভ মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকে জড়ো হন প্রায় দুই হাজার শিৰার্থী। তারা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। সেখানে আগুন জ্বালিয়ে বিৰুব্ধ সেৱাগান দিতে থাকেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে হলে ফিরে যান।
গতকাল ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও (ইবি) ক্লাস বর্জন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে ধর্মঘট পালন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরাও সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করেছেন।
এছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ক্লাস বর্জন করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।
এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা ভাঙচুর চালিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার্বজ্জামানের বাসভবনে। পরে বাস ভবনের সামনে রাখা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিৰুব্ধরা।
আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাস ভবনের ভেতর তছনছ এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। বাস ভবনের শোয়ার ঘর থেকে বাথর্বম, রান্নাঘরসহ সবখানে তারা ভাঙচুর চালায়। সে সময় তারা বাস ভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া বাসভবনের আশপাশেও একাধিক মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
পরে বিকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সরকারের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে ১৯ জনের সঙ্গে সভা করেন। প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, তারা সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করছেন। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে আজকের মধ্যে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে মুক্তি দেওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকের পর সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকের (গতকালের) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আরেকটি বিশেষ বৈঠকে কোটার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সরকার অনড় অবস্থানে নেই। আমরা তাদের দাবির যৌক্তিকতা ইতিবাচক ভাবে দেখি।
এদিকে সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ। তারা গতরাত থেকে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল এবং বাংলা একাডেমি এলাকায় অবস্থান করে সিদ্ধান্তকে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলে সেৱাগান দিতে থাকেন।
তারা বলেন, এ সিদ্ধান্ত তারা মানতে রাজি নন। কোটা সংস্কারে সুস্পষ্ট আশ্বাস না দিলে তাদের পক্ষে এ দাবি মানা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোন আশ্বাস না থাকায় তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। আন্দোলনকারীদের এ অংশটি বলছে, অন্য ইস্যু সামনে চলে আসলে এই ইস্যু হারিয়ে যাবে।
বিদ্যমান কোটার সংস্কার চেয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ দাবিতে গত ২৭ ফেব্র্বয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছে। গত রোববার তাদের পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ঢাকায় পুলিশ বাধা দিলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এরপর তীব্র রূপ ধারণ করে আন্দোলন।

Leave a Reply