বোরোর সংগ্রহ মূল্যে লাভের আশা কৃষকের

10/04/2018 1:04 am0 commentsViews: 14

গত বছর বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহ করতে বিপাকে পড়তে হয়েছিল সরকারকে। সংগ্রহ মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি থাকাই ছিল এর কারণ। ফলে লৰ্যমাত্রার এক তৃতীয়াংশ চালও সংগ্রহ হয়নি। এতে করে বাজারে দাম বেড়ে গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতায় এবার সংগ্রহের ঘোষণা এসেছে আগে ভাগেই এবং দামও বেশ বাড়ানো হয়েছে।
বাজারে এখন মোটা চাল ৩৬-৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর চলতি বোরো মৌসুমে কেজিপ্রতি চাল ৩৮ টাকা আর ধান ২৬ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রোববার খাদ্যমন্ত্রী বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের লৰ্য ঘোষণা করেছেন। উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছে প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকা ও ধান ২৪ টাকা। অর্থাৎ, উৎপাদন খরচের চেয়ে কেজিতে ২ টাকা বেশি দরে ধান-চাল সংগ্রহ করবে সরকার। এতে কৃষক আশাবাদী হতেই পারেন। যদিও মিল মালিকরা নাখোশ হয়েছেন বলে জানা গেছে। চালকল মালিকদের পৰ থেকে চালের সংগ্রহ মূল্য ৪০ টাকা করার দাবি করা হয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল আমন মৌসুমে সংগ্রহ মূল্য ছিল ৩৯ টাকা।
উলেৱখ্য, সরকার চালকল মালিকদের কাছ থেকেই চাল সংগ্রহে চুক্তি করে থাকে। ফলে তাদের ওপর অনেকাংশেই সংগ্রহ অভিযানের সাফল্য নির্ভর করে। যদিও মৌসুমের শুর্বতে সংগ্রহের লৰ্যমাত্রা ও মূল্য ঘোষণা করায় বাজারে ধান-চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই ধরে নেওয়া যায়। ফলে বাজারে কৃষকের মার খাওয়ার আশঙ্কা না থাকাই স্বাভাবিক।
তবে সংগ্রহ পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে চাল ব্যবসায়ী ও খাদ্য বিভাগের অসৎ ব্যক্তিদের যোগসাজশে ইতিমধ্যে গুদামজাত ও আমদানিকৃত চাল গুদামে সরবরাহ হয় কি-না সেদিকে দৃষ্টি রাখা দরকার। খোদ কৃষকের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের নিশ্চয়তা না থাকায় এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সামগ্রিক বিষয়ে সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰ ও প্রশাসন সজাগ থাকলে এৰেত্রে অনিয়ম এড়ানো সহজ হবে। সে যাই হোক, সরকারের ঘোষণা যে ধান-চালের বাজারকে স্বাভাবিক থাকতে ভূমিকা রাখবে এতে সন্দেহ নেই। এর ফলে বাজারে দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় কৃষক লাভবান হবে বলাই যায়।

Leave a Reply