আবাদি জমি কি কমতেই থাকবে ?

09/04/2018 1:04 am0 commentsViews: 16

দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে অথচ কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। এমন অবস’া আশঙ্কা জাগিয়েছে কৃষিজীবী মানুষের মনে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই আবাদি জমি কমতে থাকায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক।
দেশের অন্যান্য স’ানের মত রাজশাহীতেও আবাদি জমি কমছে প্রতি বছরই। শুধুমাত্র গোদাগাড়ী উপজেলায় গত ৫ বছরে প্রায় ২শ হেক্টর কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে গেছে। এই গতি দিন দিন বাড়ছেই। একইভাবে ধানের আবাদও কমতে শুর্ব করেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বোরো চাষ কমেছে এক হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে। এমন ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন, বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদনে বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা বড় হয়ে উঠবে।
সরকারিভাবে দুই ও তিন ফসলি জমিতে শিল্প কারখানা, ইটভাটা, বাসাবাড়ি বা ভবন নির্মাণ, এমনকি পুকুর খননেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন নিষিদ্ধ হলেও এর ধার ধারছে না কেউ । তবে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বেশ কিছু শিল্প কারখানা ও ইটভাটা নির্মাণের কথা জানা গেছে।
এই উপজেলাতেই ২৩টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে ফসলি জমিতে। জমির ওপরের ঊর্বর মাটি কেটে ইট তৈরি হচ্ছে। ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়াতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। প্রায় ২শ বিঘা ফসলি জমির ওপর গড়ে উঠেছে প্রাণ কোম্পানির জুস ফ্যাক্টরি। এভাবে আবাদি জমির পরিমাণ ক্রমেই কমে যাওয়া নিয়ে কারও মাথাব্যাথা লৰ্য করা যায় না, এটা বিস্ময়ের ব্যাপার।
আবাদি জমি কমে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদনও যে কমে যাবে সে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স’ানীয় কৃষিজীবীরা। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে নিশ্চিতভাবেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, প্রতিবছর আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়বে খাদ্য উৎপাদনে। কৃষি জমি রৰার আইন আছে কিন’ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় আইনের বাস্তবায়ন নেই। এমনটা চলতে থাকলে আবাদি জমি রৰা পাবে কিভাবে ?

Leave a Reply