স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা সমাধান নয়

08/04/2018 1:04 am0 commentsViews: 8

বখাটেদের উৎপাতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে শতাধিক ছাত্রী। চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের ঠাকুরপালশা কালুপুরের ঘটনাটি সামাজিক বিশৃঙ্খলার ভয়াবহতা প্রমাণে যথেষ্ট বলা যায়। বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপৰ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার অভাবে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অভিযোগে প্রকাশ, গত ৩ এপ্রিল কয়েকজন ছাত্রী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার সময় দ্বারিয়াপুর চৌহদ্দীটোলার বখাটেরা ৩ জনকে হেনস্থা করে। বিষয়টি অবগত হয়ে ছাত্রীদের অভিভাবকরা বখাটের অভিভাবকদের জানালে হাত ধরে ভুল স্বীকার করে নেন তারা। কিন্তু রাতে বখাটেরা দল বেঁধে অটোরিকশাযোগে গিয়ে ছাত্রীদের পরিবারকে হুমকি দিলে স্থানীয়রা র্বখে দাঁড়ায়। ৩ বখাটেকে ধরে তারা পিঠুনিও দেয়। বখাটেরাও পাল্টা হামলা চালায়। ঘটনা জানালে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এলাকা পরিদর্শন করলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ফলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ছাত্রীরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ না করে উপায় খুঁজে পায়নি।
হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিৰক ঘটনাটি শোনার পর শিৰার্থীদের বিকল্প পথে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছেন আর সদর মডেল থানার ওসি লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে স্থানীয় পুলিশ সুপার মামলা হবে বলে জানিয়েছেন।
এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরও স্কুলের প্রধান শিৰক ও থানার ওসির ভূমিকা যে হতাশাজনক সেটা না বললেও চলে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বহীন ভূমিকাই বখাটেদের বেপরোয়া হতে ইন্ধন যোগায়, এটা কি অস্বীকার করা যাবে? তাছাড়া এই বখাটেদের খুঁটির জোর কোথায় সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতারাই বা কি করছেন? বখাটেরা কি এতটাই ৰমতাবান যে তাদের প্রতিরোধে কেউই এগিয়ে আসতে পারছে না?
এই ধরনের বখাটেদের বির্বদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতির অবনতি ঠেকিয়ে রাখা কঠিন হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপরই এখন সব কিছু নির্ভর করছে। নইলে বখাটেদের দৌরাত্ম্য যেমন বেড়ে যাবে, তেমনি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করার মত খারাপ দৃষ্টান্ত বেড়ে যাবার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা সমাজকে আরও অসুস্থ করে তুলবে, না বললেও চলে।
সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের ওপরই এখন বিষয়টির সমাধান নির্ভর করছে। স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা যে কোন সমাধান নয় সেটা সবাই বোঝেন।

Leave a Reply