সুন্দরবনের জন্য হুমকি অপসারণ জরুরি

07/04/2018 1:04 am0 commentsViews: 9

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল হিসেবে ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আমাদের সুন্দরবন নানাভাবে হুমকির মুখোমুখি। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই সেখানে নানান ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যা সুন্দরবনের ধ্বংস তরাম্বিত করবে। আশার কথা বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালত নড়েচড়ে বসেছেন।
একটি রিট আবেদনের প্রেৰিতে গত বছর সুন্দরবনের আশপাশে নতুন শিল্প কারখানা অনুমোদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে শিল্প-কারখানা স’াপনের অনুমোদন কেন আইন বিরম্নদ্ধ হবে না এবং কেন অপসারণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে রম্নল জারি করা হয়। তাছাড়া এই সীমানার মধ্যে অবসি’ত শিল্প-কারখানার তালিকা ৬ মাসের মধ্যে দাখিলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ সংশিস্নষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত। সে প্রেৰিতে সম্প্রতি আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্পকারখানা আছে, যার মধ্যে ২৪টি লাল এবং বাকিগুলো কমলা ও সবুজ শ্রেণির। সরকারি প্রতিবেদনের ওপর মনৱব্যকালে আদালত লাল শ্রেণিভূক্ত ২৪টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে উলেস্নখ করেছেন। বিষয়টির ওপর শুনানির পরবর্তী তারিখ ৮ মে ধার্য করা হয়েছে।
যেখানে ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্টের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পরিবেশগত প্রতিপন্ন এলাকায় লাল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকার সুযোগ নেই সেখানে কীভাবে একের পর এক ২৪টি প্রতিষ্ঠান স’াপিত হলো, সেটা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ না করে পারা যায় না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান মাটি, পানি ও বায়ু ব্যাপকভাবে দূষিত করে থাকে। সুন্দরবনের মত স্পর্শকাতর এলাকা, যা নানাভাবে সংরৰিত তার আশপাশে সরকারি সিদ্ধানৱ উপেৰা করে এতগুলি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অসিৱত্ব সুন্দরবনের জন্যই শুধু নয়, সরকারের প্রতিও চ্যালেঞ্জ না বলে পারা যায় না।
যেখানে সুন্দরবনকে সংরৰিত বনাঞ্চল এবং এর চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে সরকারই ঘোষণা করেছে সেখানে সবার নাকের ডগায় এমন ঘটনা উদ্বেগজনক বলাটা কম বলা হয়।
কীভাবে সুন্দরবনের মত সংরৰিত বনে দু’শয়ের মত শিল্প প্রতিষ্ঠান স’াপিত হলো সেটা জানা এখন সময়ের ব্যাপার বলে ধারণা করাই যায়। আমরা সুন্দরবনের জন্য হুমকি অপসারণে সরকার ও পরিবেশবাদী সকলের প্রচেষ্টার সফলতা কামনা করি। উচ্চ আদালতের ভূমিকা এৰেত্রে ইতিবাচক হবে এ বিশ্বাস আছে সকলের।

Leave a Reply