আইনের প্রতি বুড়ো আঙ্গুল দেখায় যারা তারাই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কোনো কারণেই আইন অমান্য করার ফল ভালো হতে পারে না। এসব জেনে শুনেও যারা ৰুদ্র স্বার্থে বা ফায়দা লুটতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, জনগণকে দুর্ভোগে ঠেলে দেয় তাদের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন কেউই সমর্থন করতে পারে না। মঙ্গলবারের পত্রিকায় এ ধরনের দুটা ঘটনার খবর ছাপা হয়েছে। মাদকসহ আটক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ি ব্যক্তিদের আদালতে জামিন না হওয়ায় সড়ক অবরোধে যান চলাচল বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির খবর কোনোভাবেই খাটো করে দেখার উপায় নেই।
গত সোমবার সন্ধ্যায় কাটাখালি থানা এলাকায় বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ এক চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ীকে আটক করলে গোয়েন্দা পুলিশের দুই সদস্যকে আহত করে গ্রেপ্তারকৃতকে ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এ ধরনের ঘটনা আগে নগরীতে দেখা যায়নি। একই দিন দুপুরে হঠাৎ করে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা নগরীর প্রবেশপথসহ গুর্বত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করলে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। বিকেল পর্যন্ত চলা এ অচলাবস্থার অবসান ঘটে সিটি মেয়রের আশ্বাসে। সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুতে আটক ট্রাক মালিক, চালক, হেলপারকে জামিন না দিয়ে জেলে পাঠানোর প্রতিবাদেই এই অঘোষিত অবরোধ হয় বলে জানা গেছে। উভয় ঘটনাই আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা না বলে পারা যায় না।
দীর্ঘদিনের মাদকবিরোধী অভিযানের পরও মাদক সিন্ডিকেটের এমন বেপরোয়া হয়ে ওঠা থেকে বোঝা যায় তাদের শক্তির জোর কতটা। শক্তির উৎস ধ্বংস না করা পর্যন্ত এমন ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়নের পরও পরিবহন শ্রমিকদের এমন ঔদ্ধত্য সমাজ ও আইন উপেৰার জাজ্বল্য প্রমাণ ছাড়া আর কি?। নিম্ন আদালতের আদেশের বির্বদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে এমন বির্বদ্ধচারণ আদালত অবমাননা বলাই যায়। তাছাড়া যৌক্তিক কারণে প্রতিবাদ জানাতে কাজ বন্ধ রাখা বা ধর্মঘট করার নিয়ম আছে। কিন্তু রাস্তায় গাড়ি রেখে অবরোধ সৃষ্টি এবং স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা সভ্য সমাজের নজির হতে পারে না।
উলেৱখিত উভয় ঘটনাই সমাজে বিশৃঙ্খলা উস্কে দিতেই সহায়ক, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। আইন অমান্যের এমন অসুস্থ প্রবণতা বন্ধ না হলে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলার অপেৰা রাখে না। এমন প্রবণতা র্বখতে সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ভূমিকার বিকল্প আছে কি?