বিদ্যুৎ সঙকট সহনীয় করতে প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ

23/03/2018 1:02 am0 commentsViews: 18

রেকর্ড সৃষ্টিকারী উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের হাত থেকে রেহাই মিলছে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বিদ্যুতের অভাবে পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে করে সামনের পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিনৱা গভীর হচ্ছে।
রাজশাহী নগরীতে দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা ১১৫ মেগাওয়াট, যার সিংহভাগই জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায়। কিনৱু তারপরও বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা শেষ হয় না। সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতা ও ট্রান্সফরমারসহ যান্ত্রিক ক্রুটির কারণেই প্রধানত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। সংশিস্নষ্ট সূত্রেই এসব জানা গেছে।
এমন অবস্থা শুধু রাজশাহীতে নয়, সারাদেশেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের সফলতা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়াতেই যে এমন অবস্থা সেটা আগেও শোনা গেছে। নিম্নমানের তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হবার অভিযোগও নতুন নয়। তাছাড়া বেশিরভাগ সঞ্চালন লাইন পুরানো হওয়ায় একটুতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ভেঙে পড়ে অন্ধকার ডেকে আনে।
সংশিস্নষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের ফলে ২০১৬ সালে প্রায় ১০ হাজার এবং ২০১৭ সালে অনৱত ১১ হাজার বার বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়েছে। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে লোডশেডিংমুক্ত থাকা সম্ভব নয় বলেই অনেকের ধারণা।
এছাড়া প্রতিদিন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ছে। আরইবি সূত্রে জানা যায়, প্রতিমাসে গড়ে তিন লাখ করে নতুন গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও এসিসহ বিদ্যুতের বহুমুখী ব্যবহার অবাধে বাড়ছেই। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়িয়েও সঞ্চালন লাইন, উপকেন্দ্র, ট্রান্সফরমারসহ অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর না হওয়ায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতির দেখা মিলছে না।
বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সৰমতা ১৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত পৰে উৎপাদন ৰমতা ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তবে পিডিবি সূত্রে এবার গ্রীষ্মে ১২ হাজার মেগাওয়াট পর্যনৱ উৎপাদনের আশা প্রকাশ করা হলেও বাসৱবে এখন পর্যনৱ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড ১০ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট বলে জানা গেছে। উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা পূরণ করা গেলেও গ্রাহক পর্যায়ে সাড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করা সম্ভব হয় না বলেও জানা গেছে। কারণ, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির পরিচালনা ও অন্যান্য সিস্টেম লসে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ চলে যায়। তারপরও রয়েছে সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতা ও ক্রুটি। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এক প্রকার অসম্ভব বলেই ধারণা করা যায়।
এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থা তথা অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেয়া জরম্নরি হয়ে উঠেছে। তাছাড়া গ্রীষ্মের দাবদাহ সহনীয় করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ আশা করা বাতুলতা মাত্র!

Leave a Reply