আলুচাষিদের রৰায় দৃষ্টি দেয়া জর্বরি

22/03/2018 1:04 am0 commentsViews: 19

দেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল আলু নিয়ে সংকট দানা বেঁধে উঠেছে। ক্রমাগত লোকসানের মুখে আলুচাষিরাই শুধু নন, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকেরাও চোখে অন্ধকার দেখছেন। উৎপাদন বাড়িয়ে এমন বিপাকে পড়তে হলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সবার জন্যই বিপদ ডেকে আনতে পারে, ভুলে গেলে চলবে না।
অল্প সময়ে বেশি উৎপাদন হয় বলে দেশে আলুর চাষ ক্রমাগতই বাড়ছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবারও ফলন ভালো হয়েছে। এতেই বিপাকে পড়েছেন আলু চাষিরা। প্রতিমণ আলুতে লোকসান হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বিঘাপ্রতি কমপৰে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে উৎপাদন হয়েছে ৭৫ থেকে ১০০ মণ আলু। মণপ্রতি খরচ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু কৃষক পর্যায়ে প্রতিমণ আলু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। ফলে বিঘাপ্রতি কৃষকের লোকসান পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা। কৃষককে ১০ কেজি আলু বিক্রি করে এক কেজি চাল কিনতে হচ্ছে বলে পত্রিকার খবরে জানা গেছে। এমন অবস্থার মুখে কমবেশি কয়েক বছর ধরেই পড়তে হচ্ছে আলুচাষিদের।
দেশে বছরে আলুর চাহিদা ৮০ লাখ টনের মতো। উৎপাদন হয় প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ টন। কাঁচা পণ্য হিসেবে আলু বেশিদিন বাইরে রাখা যায় না। সমস্যা হলো আলু সংরৰণে পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে উঠতি মৌসুমে আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় কৃষকের হাত মাথায় উঠেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের ৪১৬টি হিমাগারে গত বছর ৫২ লাখ টন আলু সংরৰণ করা হয়েছে। এবার সেখানেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত বছর হিমাগারে আলু রেখে লোকসান গুনেছে মালিকরা। বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রিত থেকে নষ্ট হয়েছে। ফলে এবারে আলু রাখার সমস্যার পাশাপাশি তেমন ঋণ দিতেও পারেনি হিমাগার মালিকেরা। তাছাড়া লোকসানের মুখে অনেক হিমাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরও দুশ্চিন্তা না বাড়িয়ে পারে না।
অন্যদিকে উৎপাদন বাড়লেও আলু রপ্তানিতে ধস নেমেছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে যেখানে প্রায় এক লাখ তিন হাজার টন আলু রপ্তাািন হয়েছিল সেখানে ২০১৫-১৬ তে রপ্তানি নেমে আসে ২৫ হাজার ৫০০ টনের মতো। এই নিম্নমুখী প্রবণতা বছর বছর বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
এ অবস্থায় আলুর দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আলুর সাথে দেশের ছয় কোটি প্রান্তিক চাষিই শুধু নন, কয়েক লাখ ৰুদে মাঝারি ব্যবসায়ী কয়েক হাজার হিমাগার মালিক ও কর্মচারি ছাড়াও অর্ধশতাধিক ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই বিপুল জনগোষ্ঠীসহ কৃষি অর্থনীতির স্বার্থেই আলু সংরৰণ, প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া জর্বরি।
আলু সংরৰণ বাড়াতে হিমাগার স্থাপন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলায় বিশেষ সহায়তা দেয়া বিবেচনার দাবি রাখে। পাশাপাশি রেশন, কাবিখা ও ওএমএসে আলু বিক্রি, ত্রাণ কর্মসূচি, রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণে সরকারিভাবে চালের মতো আলু কেনা হলে পরিস্থিতির এতটা অবনতি হতো না বলেই ধারণা করা যায়। আলু রপ্তানি বাড়াতে পরিকল্পিত পদৰেপের বিকল্প নেই। এক কথায় বলা যায় আলুচাষিদের বিপদ কাটাতে সরকারের আশু হস্তৰেপ জর্বরি।

Leave a Reply