অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই

19/03/2018 1:04 am0 commentsViews: 5

বাংলাদেশকে এখন আর গরিব দেশ বলা যাবে না। বিশ্বব্যাংকের পর এবার জাতিসংঘও গরিব দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে আসার স্বীকৃতি দিল। দু’দিন আগে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হতে আরও কয়েকবছর অপেৰা করতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে তিনটি সূচকের দুটি পূরণ করা বাধ্যতামূলক হলেও বাংলাদেশ এর মধ্যেই তিনটি পূরণ করার সৰমতা দেখিয়েছে। মাথাপিছু আয় কমপৰে ১২৩০ মার্কিন ডলারের স্থলে বাংলাদেশের অর্জন ১৬১০ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ পয়েন্ট প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশের অর্জন ৭২ দশমিক ৯ আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক ৩২ ভাগ বা এর কম দরকার হলেও বাংলাদেশের ২৪ দশমিক ৮ ভাগ। এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে। এ সবের ধারাবাহিকতা রৰিত হচ্ছে কি-না তা নিশ্চিত হতে তিন বছর করে দুই দফা পর্যবেৰণে থাকার পরই ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করবে। পরীৰামূলক এই সময়ের গুর্বত্ব সমধিক।
কারণ এই সময়ের পর বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চলতে হবে। তখন গরিব দেশের সুযোগ-সুবিধা আর পাওয়া যাবে না। এর মধ্যে সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ ও উন্নত বিশ্বে রপ্তানি পণ্যে শুল্পমুক্ত প্রবেশাধিকার উলেৱখ করার মতো। এ সবের লাভৰতির হিসাব কষেই দেশকে কাঙ্খ্মিত লৰ্যে এগিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে অর্জিত অবস্থান ধরে রাখতে ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতেও হবে।
এ ৰেত্রে দেশের মানবসম্পদ বিশেষ করে তর্বণ জনগোষ্ঠীকে দৰ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে কাজে লাগানোর ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া এটা যে কঠিন সেটা বলার অপেৰা রাখে না। অভ্যন্তরীণ সৰমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানিমুখী খাতে বৈচিত্র আনাও জর্বরি। শুধুমাত্র পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতা যে ঝুঁকিপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য। একই সাথে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও তার সঠিক ব্যবহার এবং কৃষি খাতের পরিকল্পিত উন্নয়নে সতর্ক দৃষ্টি দেয়ার ওপর জোর দিতে হবে। এসব বিষয়ে গুর্বত্বারোপ করেই সরকার পরিকল্পনা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর মানুষকে আশাবাদী না করে পারে না।
রক্তৰয়ী মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছরের আগেই বাংলাদেশের অর্জন অনেকের কাছেই বিষ্ময়কর মনে হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার যে যাত্রা শুর্ব হয়েছিল, উত্থান পতনের পথ ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তা বেগবান হয়েছে বলেই দেশ আজকের অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে অস্বীকার করা যাবে না। এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রৰার বিকল্প নেই।
এৰেত্রে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনে জাতি হিসেবে আমাদের সৰমতার ওপরই নির্ভর করছে দেশের দারিদ্র্যমুক্তি ও উন্নত হয়ে ওঠা। মনে রাখতে হবে, অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রেখেই আমরা স্বাধীনতার এই স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।

Leave a Reply