রাবির দশম সমাবর্তন ফের স্থগিত

14/03/2018 2:04 am0 commentsViews: 10

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : শিৰামন্ত্রী নুর্বল ইসলাম নাহিদের চোখের অপারেশনের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তন স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপৰ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দশম সমাবর্তন কমিটি’র জর্বরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ঠিক ১০ দিন আগে তৃতীয় দফায় এই স্থগিতের ঘোষণা আসলো। এর আগে ২০১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর ও ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সম্ভাব্য দু’টি তারিখ নির্ধারণ করেও সমাবর্তন করতে পারেনি কর্তৃপৰ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এম. আব্দুস সোবহান বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) শিৰামন্ত্রী টেলিফোনে আমাকে উনার অসুস্থতার কথা জানান। মন্ত্রী চোখে বুধবার (আজ) জর্বরি অপারেশন করাবেন। ফলে দশম সমাবর্তন কমিটির জর্বরি সিদ্ধান্তে এই সমাবর্তন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলে এই সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’
গত ৩ ফেব্র্বয়ারি রাষ্ট্রপতি ও রাবির চ্যান্সেলর মোহাম্মদ আবদুল হামিদের প্রতিনিধি হয়ে শিৰামন্ত্রী সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপৰ। এর পর থেকে নিবন্ধিত গ্রাজুয়েটরা এর বিরোধিতা করে আসছিলেন। তারা সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির দাবি জানান। এই দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন করেন। রাবি ভিসিকে স্মারকলিপি দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে গ্রাজুয়েটরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হন। তারা দশম সমাবর্তনে শিৰামন্ত্রীকে বয়কট ও রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির দাবি জানান। সমাবর্তনের তারিখ কাছাকাছি আসলেও কর্তৃপৰ তাদের দাবি না মানায় একপর্যায়ে একদল গ্রাজুয়েট জানিয়ে দেন- শিৰামন্ত্রীর হাত থেকে সনদ নিবেন না তারা। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশও হয়। এর পরপরই শিৰামন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে সমাবর্তনে অংশ নিতে না পারা এবং রাবি কর্তৃপৰের পৰ থেকে সমাবর্তন স্থগিতের ঘোষণা আসলো। প্রশাসনের সমাবর্তন স্থগিতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিৰকদের গ্র্বপ সাদা দল। এক বিবৃতিতে সাদা দলের আহ্বায়ক প্রশাসনকে স্বাগত জানান।
এদিকে, সমাবর্তন স্থগিতের ঘটনায় রেজিস্ট্রেশন করা গ্রাজুয়েটদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। একপৰ বলছেন- দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলে ভালো হতো। অন্যপৰ বলছেন- শিৰামন্ত্রীর না আসার ফলে সামনের দিনে সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দশম সমাবর্তনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হয়। পরে রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা দুই দফা বৃদ্ধি করা হয়। সবশেষ চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তৃতীয় দফায় রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেয়া হয়। এই সমাবর্তনে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি, এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রি অর্জনকারীদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেয়া হয়। সমাবর্তনে অংশ নিতে তিন দফায় মোট ৬ হাজার ৯ জন গ্রাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

Leave a Reply