সঙ্কটাপন্ন র্বয়েট শিৰিকা মারা গেছেন স্বামী রাকিবুল

14/03/2018 2:04 am0 commentsViews: 5

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : নেপালের কাঠমুন্ডুতে বিধ্বস্ত বিমানে থাকা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (র্বয়েট) সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসির স্বামী রাকিবুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্নালিলৱাহি…রাজিউন)। গত সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাকিবুলের মৃত্যু হয়। আর সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় কাঠমুন্ডুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিৰিকা ইমরানা কবির। ৭২ ঘণ্টা পর্যবেৰণের পর তিনি শঙ্কামুক্ত কিনা তা বলা যাবে।
ইমরানা কবিরের মামাশ্বশুরের বরাত দিয়ে র্বয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. মোহা. রফিকুল আলম বেগ মঙ্গলবার এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুপুরে (মঙ্গলবার) হাসির মামাশ্বশুরের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন- হাসির শরীরের ৩৫ শতাংশ অংশ পুরোপুরি পুড়ে গেছে। শ্বাসনালীও বার্ন হয়েছে। বাম পাশে বড় ধরনের আঘাতে গুর্বতর জখম হয়েছেন। ৭২ ঘণ্টা পর্যবেৰণে রাখার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। হাসির খোঁজ-খবর নিতে সোমবার রাতেই তাঁর বিভাগের ব্যাচমেট লিমা স্বামীসহ কাঠমুন্ডুতে গেছেন।
র্বয়েট ভিসি আরও জানান, হাসির স্বামী রাকিবুল সোমবার রাতে মারা গেছেন। রাকিবুলও র্বয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০০৬ সিরিজের শিৰার্থী ছিলেন। লেখাপড়া শেষ করে তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালিতে। মৃত্যুর সংবাদ জানার পর রাকিবুলের মামাতো ভাই জুয়েল সোমবার রাতে নেপালে গেছেন।
আহত ইমরানা কবির ২০১৪ সালে র্বয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। রাজশাহী নগরীর মোন্নাফের মোড় এলাকায় একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন তিনি। সেখানে তিনি একাই অবস্থা করতেন বলে জানান বাড়ির মালিক আসাদুলৱাহ রঞ্জু। রঞ্জু জানান, হাসি ম্যাডাম ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আমাদের বাসায় ওঠেন। যতদূর জানি- উনার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। মাঝে-মধ্যে তিনি রাজশাহীতে বেড়াতে আসেন। গত ৭ মার্চ ম্যাডাম গ্রাষ্মকালীন ছুটি কাটাতে ঢাকায় যাচ্ছেন বলে জানিয়ে বাসা থেকে বের হন।
ইমরানা কবির হাসির বাবা হুমায়ন কবির পেশায় একজন ব্যাংকার। তিনি সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেন। আহত ইমরানা কবিরের সবশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরৰণে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বলেন, ‘বাড়ির সবাই বাকর্বদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমাকে তো শক্ত থাকতেই হবে; তা না হলে ওর মা-বোনকে বাঁচাতে পারবো না। জামাইটা তো মারা গেছে। মেয়েটারও জানি না কি হবে? আমার আদরের হাসির পুরো শরীরটা নাকি পুড়ে গেছে। আপনারা আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই। দুইটা মেয়ে। হাসি বড়; ছোট মেয়ে তামান্না কবির ইন্টারমিডিয়েট পড়ছে। হাসি পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। লেখাপড়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেধা দিয়েই হাসি র্বয়েটে শিৰক হয়েছে। কোনো লবিং বা টাকা-পয়সা দেয়া লাগেনি। ছুটিতে নেপালে যাবে জানিয়ে ৭ তারিখে ঢাকা গেল। তারপরও কয়েকদফা কথা হয়েছে। বিমানে উঠার আগে আমার কাছে দোআ চেয়ে বিমানে ওঠে। আমি তো ভালো দোআই করেছিলাম, সৃষ্টিকর্তা কেন তাহলে এমনটি করলো!

Leave a Reply