বিধ্বস্ত বিমানে ছিলেন রাজশাহীর তিন দম্পতি, পাঁচজনই নিহত

14/03/2018 2:05 am0 commentsViews: 100

স্টাফ রিপোর্টার: নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতে রাজশাহীর তিন দম্পতি ছিলেন। এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই নিহত হয়েছেন। বেঁচে আছেন শুধু রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (র্বয়েট) এক নারী শিৰক। তার নাম ইমরানা কবির হাসি।
তিনি কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক আইডিতে হতাহত বাংলাদেশিদের যে তালিকা প্রকাশ করেছেন তাতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তালিকার ৩২ বাংলাদেশির মধ্যে ইমরানা কবির হাসির নাম রয়েছে ১৪ নম্বরে। সবুজ রঙে নাম লিখে জানানো হয়েছে তিনি জীবিত আছেন। তবে হাসির স্বামী রকিবুল হাসানের নাম লেখা রয়েছে কাল রঙে। জানানো হয়েছে তিনি বেঁচে নেই।
প্রকৌশলী রকিবুলের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে। আর হাসির বাড়ি টাঙ্গাইলে। র্বয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ থেকে পাস করে সেখানেই শিৰক হিসেবে যোগ দিয়েছেন হাসি। আর তার স্বামী একই বিভাগের জিরোসিক্স সিরিজের শিৰার্থী ছিলেন। রকিবুল ঢাকায় একটি বেসরকারি সফটওয়ার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। হাসি রাজশাহীর মুন্নাফের মোড় এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
এই দুর্ঘটনায় রাজশাহীর আরও দুই দম্পতি নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- নগরীর শিরোইল এলাকার বাসিন্দা হাসান ঈমাম, তার স্ত্রী নাহার বিলকিস বানু এবং উপশহর এক নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা নজর্বল ইসলাম ও তার স্ত্রী আক্তারা বেগম। নিহত নাহার বিলকিস বানু রাজশাহীর বরেন্দ্র কলেজের অধ্যৰ আলমগীর মালেকের বোন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিৰক ছিলেন। আর তার স্বামী হাসান ঈমাম ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব।
অন্যদিকে নজর্বল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের একজন উচ্চপদস’ কর্মকর্তা। তার স্ত্রী আক্তারা বেগম ছিলেন রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের শিৰক। দুইজনই সমপ্রতি অবসর প্রস’তি মূলক ছুটিতে (এলপিআর) গেছেন। অবসর গ্রহণের আগের এই ছুটিতে তারা প্রথমবারের মতো বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে সেখানেই জীবন থেকে বিদায় নিলেন তারা।
মুঠোফোনে তাদের মেয়ে কাকন জানান, তারা দুই বোন। ঢাকায় থাকেন। তাদের বাবা-মা রাজশাহীতে থাকতেন। নেপালের বিমানবন্দরে যে বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তাতে তার বাবা-মা ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তারা তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছেন। কিন’ এখনও তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না। ভাবছেন, ঘরে ফিরবেন তাদের বাবা-মা।
এদিকে নিহত হাসান ইমাম সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছিলেন। এর আগে তিনি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ছিলেন। তিন বছর আগে তিনি অবসরে যান। আর তার স্ত্রী বিলকিস আরা নাটোরের গোপালপুর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিৰিকা ছিলেন। নিহত হাসান ঈমাম, তার স্ত্রী বিলকিস বানু এবং নজর্বল ইসলাম ও তার স্ত্রী আক্তারা বেগম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। তারা চারজনেই অর্থনীতি বিভাগে লেখাপড়া করেন। একে অপরের সঙ্গে সবার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তাই তারা চারজন একসঙ্গেই নেপাল ভ্রমণে যাচ্ছিলেন।
নিহত বিলকিস আরার ভাই রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের অধ্যৰ আলমগীর মালেক জানান, ‘আমাদের নয় ভাই-বোনদের মধ্যে পঞ্চম বিলকিস আরা। দুই ছেলে। তারা ক্যানাডায় থাকে। তার বোন উড়োজাহাজে চড়তে ভয় পেতেন। এ কারণে তিনি কোনদিনই উড়োজাহাজে ওঠেননি। তার দুই ছেলে মাকে একাধিকবার ক্যানাডায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন’ উড়োজাহাজে উঠার ভয়ে তিনি ছেলের কাছে যাননি। এই প্রথম তিনি উড়োজাহাজে চড়ে নেপাল বেড়াতে যাচ্ছিলেন বলে জানান বিলকিস আরার ভাই আলমগীর মালেক।
গত সোমবার দুপুরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া এই বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

Leave a Reply