নেপালে বাংলাদেশি বিমান বিধ্বস্ত

13/03/2018 2:09 am0 commentsViews: 35

সোনালী ডেস্ক: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিএস-২১১ নামের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ৭৮ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু ছিলেন।
এ বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের সেনাবাহিনী। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরো ১০ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ জন পুর্বষ, ২৭ জন নারী এবং দুই জন শিশু। এদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালের এবং একজন করে চীন ও মালদ্বীপের নাগরিক ছিলেন বলে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজকুমার ছত্রীকে উদ্ধৃত করে নেপালের অনলাইন সংবাদপত্র মাই রিপাবলিকা জানিয়েছে, বিমানটির ৫০ জনেরও বেশি আরোহী নিহত হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডুর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে বেশকিছু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা অন্তত ৫০ জনের পাণহানি হওয়ার শঙ্কা জানিয়েছে।
বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুরকে উদ্ধৃত করে মাই রিপাবিৱকা নামের একটি অনলাইন সংবাদপত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দরের দক্ষিণের টার্মিনাল থেকে ফেরার সময় রানওয়েতে গিয়ে এটি অদৃশ্য হয়ে যায়। তারপর বড় আকারের ধোঁয়ার কুন্ডলি আকাশে উঠতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর ত্রিভুবন থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এই নিউজপোর্টালটি।
এদিকে বিধ্বস্ত বিমানের বৱ্যাক বঙ খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। পরীক্ষার জন্য সেটি পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানের পাইলটকে দোষারোপ করেছে। বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজকুমার ছেত্রি আলজাজিরাকে বলেন, ‘কন্ট্রোল র্বমের নির্দেশ অমান্য করে ভুল দিকে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়েতে পিছলে যায়।’
তিনি বলেন, ‘কন্ট্রোল র্বম থেকে তাকে দক্ষিণ দিক থেকে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু আকাশে কয়েকবার চক্কর দিয়ে বিমানটি উত্তর দিক থেকে অবতরণ করে।’
তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইমরান আসিফ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বিমানের পাইলট আবিদ সুলতান আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন আছেন। পাইলটের সঙ্গে কন্ট্রোল টাওয়ারের ‘ভুল বুঝাবুঝির’ কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
ইউটিউবে বিমানের পাইলট ও কন্ট্রোল র্বমের মধ্যে কথোপকথন প্রকাশ করা হয়েছে। সেটি শুনেই তারা এমন সন্দেহ করছেন বলে জানান আসিফ। তবে বিমান দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী বসন্ত বহরা কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেছেন, ঢাকা থেকে তাদের বিমান স্বাভাবিকভাবেই উড়েছিল। কিন্তু ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছাকাছি এসে বিমানটি অদ্ভুত আচরণ শুর্ব করে।
রাসুইটা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কর্মচারী বাসন্ত বহরা বলেন, ‘হঠাৎ বিমানটি প্রচ-ভাবে কাঁপতে শুর্ব করে এবং একসময় খুব জোরে একটা শব্দ হয়। আমি জানলার কাছে বসেছিলাম তাই জানলা ভেঙে বেরিয়ে আসতে পেরেছি।’
বাসন্ত বহরা ছাড়াও আরও ১৫ জন নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে জানিয়েছে ইউএস বাংলা। তারা হলেন- ইমরানা কবির হাসি, পিঞ্জি ধামী, সামিরা বেজাংকার, কবির হোসেন, মেহেদী হাসান, রেজওয়ানা আব্দুলৱাহ, সোহারনা সাইয়িদা কামর্বনন্নাহার, শাহরিন আহমেদ, শাহিন ব্যাপারী, কিশোর চিপাতী, হারি প্রসাদ সুবেদী, দায়রাম তামরাকার, কেশব পান্ডে, আশিশ রনজিত এবং বিনোদরাজ পডুয়াল।
তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিমানটি থেকে ২২ আরোহীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্য নয়জন বাংলাদেশি। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
যাত্রীদের মধ্যে ১৩ জন ছিলেন সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরছিলেন এই নেপালি শিক্ষার্থীরা। কলেজের অধ্যক্ষ আবেদ হোসেন জানান, এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ায় স্বজনদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে দেশে ফিরছিলেন ওই ১৩ শিক্ষার্থী।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দুর্ঘটনার পরপরই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতাল এবং এয়ারপোর্টে আছেন।’ তিনি লেখেন, ‘নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ১৪ জন বাংলাদেশি আহত অবস্থায় আছেন।’

Leave a Reply