এমন ধর্মঘট কাম্য নয়

13/03/2018 2:04 am0 commentsViews: 28

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মের ব্যত্যয় সহজে দেখা যায় না। সেখানে সাধারণত সবকিছুই চলে নিয়ম মেনে। এর পেছনে শুধু আইন নয়, দায়িত্ববোধও কাজ করে। যারা গুর্বত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত বিশেষ করে জর্বরি ও সেবামূলক কাজে, তাদের দায়িত্ববোধের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। পরিবহন ও চিকিৎসা সেবা খাত এরকমই বলা যায়।
কিন্তু আমাদের দেশে পরিবহন খাতের লোকজনের যখন-তখন ধর্মঘটের নামে যান চলাচল বন্ধ করতে বাধে না। যাত্রীদের জিম্মি করে তারা নিজেদের দাবি আদায় করতেই পছন্দ করে। সংগঠিত শক্তি ও রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে যাত্রী সাধারণের চরম ভোগান্তি হলেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদৰেপ দেখা যায় না। বারবারই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিই যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেলায়ও।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হঠাৎ ধর্মঘটে মাঝে মধ্যেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। রোগীদের ভোগান্তি চরম হলেও এর শেষ হচ্ছে না। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিৰকের সাথে জনৈক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ধাক্কা লাগার ঘটনা নিয়ে এমনই ধর্মঘট শুর্ব হয়েছে।
১৪ ফেব্র্বয়ারি ওই ঘটনায় উভয় পৰের মুখোমুখী অবস্থান, উত্তেজনা, মামলা-পাল্টা মামলা ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ধর্মঘটে পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে হয়ে ওঠে। তখন হাসপাতাল কর্তৃপৰ, রাবি কর্তৃপৰ, বার সমিতি ও ৰমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ বসে উভয় পৰের মামলা প্রত্যাহারসহ আপস-মিমাংসা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু হঠাৎ করে সুপ্রিম কোর্টের জনৈক আইনজীবী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বির্বদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আবারও ধর্মঘট শুর্ব করে রোগীদের জিম্মি দশায় ফেলেছেন। হাসপাতালের মত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা মোটেই স্বাভাবিক বলা যাবে না।
যারা ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নয় তাদেরকে জিম্মি করা শুধু আইনের দৃষ্টিতেই নয়, নীতি-নৈতিকতার দৃষ্টিতেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অন্যদিকে উভয় পৰের আপস-মিমাংসার পর বাইরের কারও মামলা করার পেছনে কি কারণ সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। সে যাই হোক, মামলা প্রত্যাহার দাবি জানিয়ে সংশিৱষ্টদের বিষয়টা খতিয়ে দেখার সুযোগ না দিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সরাসরি ধর্মঘটে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন জোরালো না হয়ে পারে না। অসহায় মানুষ, যারা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের জিম্মি করার পেছনে কোনো সুযুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। মানবিকতা ও চিকিৎসকদের শপথও ধর্মঘটের নামে এ ধরনের অরাজকতা সমর্থন করে বলে আমাদের জানা নেই।
এ অবস্থায় সংশিৱষ্ট পৰদ্বয়, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আশু হস্তৰেপে পরিস্থিতি দ্র্বত স্বাভাবিক হবে এটাই সবার কাম্য। ভবিষ্যতে এভাবে যাতে কাউকে জিম্মি হতে না হয় তার নিশ্চয়তা দেবার কি কেউ নেই?

Leave a Reply