পানি আর কতদূর গড়াবে?

13/03/2018 2:05 am0 commentsViews: 23

স্টাফ রিপোর্টার: গত একমাস ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিৰকের মধ্যে মামলা-পাল্টা মামলা, যখন তখন কর্মবিরতি চলছে। এ খেলা শেষ হবে কবে? এতে করে একদিকে রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে অপরদিকে উভয় পৰের কাদা ছুড়াছুড়িতে সমাজে দুটি পেশার ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ঘটনায় পানি অনেক দূর গড়িয়েছে উঠেছে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে কে?
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগীর অভিভাবক বলেন, রামেক হাসপাতালে সুষ্ঠু পরিচালনার অভাব দেখা দিয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে রোগীদের জিম্মি করে লাগাতার ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৪ ফেব্র্বয়ারি রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সাথে রাবি শিৰকের ধাক্কা, বাকবিত-া ও মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের ঘটনার জন্ম হচ্ছে। কা- পাশাপাশি একজন শিৰকের এ ধরনের আচরণ নিয়ে মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিৰকতা এবং চিকিৎসাসেবা এই দুটো পেশাই সমাজের মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানজনক। কিন্তু সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পৰের এই লড়াই যে পেশাকে বির্তকিত করছে সেটা মোটেই গুর্বত্ব পাচ্ছে না। ভবিষ্যত প্রজন্মের ওপরে কি এর কোন প্রভাব পড়বে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নগরবাসীও।
সামান্য এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পৰের আচরণে বুদ্ধিজীবীরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, দ্র্বত টেবিলে বসে এ সমস্যা সমাধান করে নেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. মাসুম হাবিব বলেন, উভয় পৰের উদার দৃষ্টিকোণ দরকার। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তো রাবি শিৰক এটিমএম এনামুল জহিরের ছাত্রের মত। বিষয়টি এতদূর গড়ানো নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তার ধারণা বিষয়টি দ্র্বত টেবিলে বসে সমাধান হওয়া উচিত এবং বর্তমানে রাজশাহীর উন্নয়ন ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করা দরকার।
এদিকে উক্ত ঘটনা নিয়ে রাবি’র কয়েকজন শিৰকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত তিনদিন ধরে চলছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট। চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। এর আগে গত ২৩ ফেব্র্বয়ারি একই ঘটনাকে কন্দ্রে করে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয় ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ২৭ ফেব্র্বয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জর্বরি বিভাগে ব্যারিকেড দিয়ে তারা রোগী ভর্তি বন্ধ করে বিৰোভ করেন। সেদিন সব পৰ বসে আপস-মিমাংসায় সমাধান-এর কথা উলেৱখ করা হলেও পরে ৭ মার্চ ৪ জন ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ ১০ জনের বির্বদ্ধে উস্কানিমূলকভাবে আইসিটি আইনে মামলা করা হয়। এতে করে আবারো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply