অগ্নিঝরা মার্চ

13/03/2018 2:05 am0 commentsViews: 10

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ১৩ মার্চ। অগ্নিঝরা মার্চের ত্রয়োদশ দিন। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আহূত অসহযোগ আন্দোলনের ষষ্ঠ দিন। পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বঙ্গবন্ধুর হাতে। তাঁর অঙ্গুলি হেলনে, নির্দেশনায় চলছে সবকিছু। মুক্তিকামী জনতার আন্দোলন এগিয়ে যাচ্ছে অনিবার্য পরিণতির দিকে।
অসহযোগ আন্দোলনের এক সপ্তাহ পর দেশ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, লেখক, শিৰক সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রৰার আন্দোলনে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
পাকিস্তানী সামরিক শাসকরা বাংলার দামাল ছেলেদের এই আন্দোলন দেখে চিন্তিত হয়ে পড়ে।
একাত্তরের এদিন মূলত পাক স্বৈরাচাররা পূর্ব পাকিস্তানের বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করতে পারে। তারা চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারাও শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁরা বুঝতে পারেন বাঙালি এবার স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেবেই। সেই কারণে তারা এক জর্বরি বৈঠক ডাকেন। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতারা অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাছে ৰমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান।
এ দিনে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে তিনটি আহ্বান জানানো হয়। তা হলো- পূর্ব পাকিস্তান থেকে সামরিক আইন প্রত্যাহার, ২৫ মার্চের আগে ৰমতা হস্তান্তর এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে প্রতিটি গ্রাম, শহর, বন্দর, নগরে চলতে থাকে তীব্র অসহযোগ আন্দোলন। পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি পর্বে পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যবসাবাণিজ্য অচল হয়ে পড়ে। পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের ভিত নড়ে ওঠে।

Leave a Reply