নগরীর পানি সঙ্কট সমাধান দূরের বিষয়

12/03/2018 2:05 am0 commentsViews: 32

গ্রীষ্মকালে রাজশাহী নগরীর পানি সঙ্কট আগেও ছিল, এখনও আছে। পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপৰ (ওয়াসা) সৃষ্টির সাত বছর পরও এ সমস্যার সমাধান দেখা যাচ্ছে না। নিয়মিত ওয়াসার বিল পরিশোধ করেও ঠিকমতো পানি সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছে নগরবাসী।
এ নিয়ে ওয়াসা কর্তৃপৰের মুখে পুরানো গীতই শুনতে হচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপে ঠিকমতো পানি উঠছে না। অথচ, গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তারপরও পরিস্থিতির উন্নতি নেই।
এদিকে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নগরীর ৪টি গ্রাউন্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট পৱান্ট বন্ধ থাকার কথা জানা গেছে। এগুলি নির্মাণে প্রতিটির পেছনে ব্যয় হয়েছিল সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে ওয়াসা ভবনের পৱান্টও রয়েছে।
ফলে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ১৫০ কোটি লিটার হলেও সরবরাহ করা হয় ১২০ কোটি লিটার। ঘাটতি প্রায় ৩০ কোটি লিটার পানি। আর গ্রীষ্মকালে চাহিদা বেড়ে গেলেও পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। এর মধ্যেও পানির অপচয় থামে না। অবৈধ সংযোগ ছাড়াও নির্মাণ কাজে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে ওয়াসার পানি। নির্মাণাধীন বহুতল ভবনগুলিতে ইচ্ছামতো ব্যবহার হওয়ায় স্বাভাবিক পানি সরবরাহে টান পড়ছে। ফলে গ্রাহকদের কলে পানি কমছে। উঁচু জায়গায় পাািন সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে এই ফাল্গুনেই। চৈত্র, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ভাবনার বিষয়।
বিষয়টা ওয়াসা কর্তৃপৰেরও অজানা নেই। তবে তারা বহুতল ভবন নির্মাণে ওয়াসার পানি ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার কথা অস্বীকার করেনি। বেশিরভাগ ৰেত্রে অনুমতির তোয়াক্কা না করেই ওয়াসার পানি ব্যবহার করা তাদেরও জানা বিষয়। এদের বির্বদ্ধে অভিযানের কথা থাকলেও ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্কটের কারণে তা হয়ে ওঠে না এটা স্বীকার করতেও অসুবিধা হয়নি। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় ময়লা ও ঘোলা পানি সরবরাহের অভিযোগও নতুন নয়। এসব নিয়ে অবশ্য কর্তৃপৰের কানে পানি ঢুকেনি। এখন ফোনও কেউ ধরে না বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
এ অবস্থায় ২২টি উৎপাদক নলকূপ বসানোর কথা জানা গেছে। এর মধ্যে ১২টি স্থাপিত হয়েছে, ১০টি হবে আগামী দুই মাসের মধ্যে। তাছাড়া স্থায়ী সমাধান হিসেবে ৩০ কি.মি দূরে গোদাগাড়ী উপজেলায় পানি শোধণাগার স্থাপিত হলে পদ্মার পানি এনে নগরীর পানি সঙ্কট দূর হবার আশার কথা নগরবাসীকে শুনতে হচ্ছে।
অর্থাৎ পানি সঙ্কট সমাধান এখনও দূরের বিষয়। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতায় ভূক্তভোগী নগরবাসীর অপেৰার পালা দীর্ঘই হবে। কলস নিয়ে ছুটাছুটির দৃশ্যই স্বাভাবিক বলে মেনে নেবার বিকল্প দেখা যাচ্ছে না।

Leave a Reply