তাহেরপুরে কলেজশিৰকের রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

09/03/2018 2:06 am0 commentsViews: 103

তাহেরপুর প্রতিনিধি: বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সামছুুন নাহারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে তাহেরপুর তদন্ত কেন্দ্রর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বাগমারা থানায় পাঠিয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলাম প্রামানিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে বলে জানিয়েছেন বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ।
মৃত সামছুন নাহার তাহেরপুর ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন। তার বাড়ি তাহেরপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পাবনাপাড়া বাবুর বাগান এলাকায়। সামছুুন নাহার শ্রীপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবেদ আলী মৃধার মেয়ে এবং তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আবু বাক্কার মৃধা মুনছুর রহমানের ছোট বোন। আর নিহত নাহারের স্বামী সাইফুল ইসলাম তাহেরপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড ভাবনপুর মহলৱার নজির প্রামানিকের ছেলে। তিনি তাহেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক।
এদিকে সকালে সামছুুন নাহারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা হতে শত শত নারী-পুরুষ তার বাড়িতে ভিড় জমায় তাকে এক নজর শেষ দেখার জন্য।
তাহেরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লুৎফর রহমান জানান, কীভাবে নাহারের মৃত্যু হয়েছে প্রাথমিক তদন্তে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ময়না তদন্তের পর মৃত্যু কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়াও তার ঘরে ধস্তাধস্তি ও বমির আলামত পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল তার স্ত্রী নাহারকে মারধর করার কথা স্বীকার করেছেন। পরে সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয় বলে পুলিশ জানায়।
কলেজশিৰক সামছুুন নাহারের বাবার পরিবারের লোকজন জানান, নাহারের লাশ তার শোয়ার ঘরের খাটের উপর পাওয়া গেছে। তবে ঘরের দরজা খোলা ছিল। আর বাড়ির মেইন গেটের দরজা বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল। সকালে তাদের পোল্ট্রি খামারের এক শ্রমিক কাজ করতে এসে দেখে বাড়ির মেইন গেটের দরজায় তালাবদ্ধ। তিনি বাড়ির প্রাচীর টপকে খামারের তালার চাবি নিয়ে তালা খুলে মুরগির খাবার দেয়া শুরু করলে এ সময় সাইফুল ও নাহারের ছোট মেয়ে শশী তার খালার বাড়ি থেকে এসে দেখেন মেইন গেটের দরজা বাইরে থেকে তালা লাগানো। এসময় ওই শ্রমিককে ডেকে দরজার তালা খুলে ভিতর প্রবেশ করে মায়ের লাশ দেখতে পায়। এ সময় বাড়িতে আর কেউ ছিল না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক সাইফুল পুলিশকে জানিয়েছেন, বুধবার রাতে বড় কুটুম মুনছুর চলে যাওয়ার পর নাহারের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এ সময় সে ঝাঁটা দিয়ে নাহারকে মারপিট করে রাত দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজশাহী শহরে চলে যান। নাহারের পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে সামছুুন নাহারের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাহেরপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধার করে সেখানে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পুলিশ সাইফুলকে রাজশাহী থেকে মোবাইলফোনে ডেকে নেয়। পরে পুলিশের ফোন পেয়ে তিনি তাহেরপুরে আসেন। সূত্র মতে, বেশ কিছুদিন যাবৎ তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জের ধরে মাঝে মধ্যে নাহারকে নির্যাতন করা হত বলে এলকার মানুষ জানান। বুধবার দিবাগত রাতে নাহারের ভাই আবু বাক্কার মৃধা মুনছুর গিয়ে নাহার ও সাইফুলের মধ্যে মিমাংসা করে দেন। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুনছুর বাড়িতে চলে আসে। পরে আবারো তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। নাহারকে মারপিট করে সাইফুল বাড়ি থেকে চলে যায়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ জানান, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাচ্ছে না। মৃত্যুর কারণ জানা গেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর আটক সাইফুলকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান ।

Leave a Reply