নতুন শপথে পালিত ৭ মার্চ

08/03/2018 1:04 am0 commentsViews: 21

বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম ঐতিহাসিক দিন ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকন্ঠে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। তেজোদীপ্ত সেই ভাষণ বাংলার মানুষকে বিজয়ের পথ দেখিয়েছিল। সেই থেকে আজ অবধি সেই ভাষণ বাঙালিকে উদ্দীপ্ত করে সাহসী হতে। করবে অনাদিকালব্যাপী।
এবার এক নতুন প্রেৰাপটে পালিত হলো এই মহান দিনটি। গত বছর জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করেছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। ফলে আনৱর্জাতিক পরিসরেও এখন আলোচিত এই দিন।
শুধু বাঙালির নয়, এর ফলে বিশ্ববাসীর সম্পদ হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। এটা বাঙালিদের নতুন করে গর্বিত না করে পারে না। অথচ এই ভাষণ মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলেছে বিভিন্ন ভাবে। কিন’ ইতিহাসকে যে কখনই মুছে ফেলা যায় না সেটা বার বারই প্রমাণিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও হবে।
এবারে সেই একই স’ানে ৭ মার্চ উপলৰে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথাই তুলে ধরেছেন। স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সেই দিনের পটভূমি। বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলার ঘরে ঘরে কীভাবে দুর্গ গড়ে উঠেছিল, পাকিসৱানী সেনাবাহিনীর গণহত্যার জবাবে হাতের কাছে পাওয়া হাতিয়ার নিয়েই বীর বাঙালি রম্নখে দাঁড়িয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর অনুপসি’তিত তাঁর ঘোষিত ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’ হয়ে উঠেছিল আপামর বাঙালির মূলমন্ত্র। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তৰয়ী সংগ্রাম, ৩০ লাখ শহীদের জীবন দান ও অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে শেষ পর্যনৱ অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
বাঙালি জাতির জীবনে গুরম্নত্বপূর্ণ দিনগুলির একটি ৭ মার্চ। প্রতিবছর এই দিনে বাঙালি তার সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মদানের পাশাপাশি যারা সেদিন স্বাধীনতার বিরোধিতায় মেতে উঠেছিল তাদের প্রতিও তীব্র ঘৃণা ঝড়ে পড়ে। এখনও সেই ষড়যন্ত্রকারীদের অপচেষ্টা থেমে নেই। নানাভাবে তারা স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রসৱ করতে মরিয়া হয়ে আছে। এবারের ৭ মার্চে এই ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলায় জাতি নতুন করে শপথ নিয়েছে। সব ষড়যন্ত্র বানচাল করে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাসৱবায়নে সেই ৭মার্চের মতই রম্নখে দাঁড়াবে এদেশের জনগণ। ইতিহাস এগিয়ে চলবে তার নির্দি গতিতে।

Leave a Reply