হিমাগারে শ্রম আইন বাসৱবায়নে আদালতের নির্দেশনা

07/03/2018 1:04 am0 commentsViews: 6

শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থরৰা নিশ্চিত করতেই দেশে শ্রম আইন রয়েছে। এই আইনের বাসৱবায়ন তদারকির দায়িত্ব কারখানা পরিদর্শক ও শ্রম বিভাগের। কিন’ এর ব্যত্যয় ঘটায় প্রায়শই শ্রমিক বঞ্চিত হয়, নির্যাতিত হয়। অন্যদিকে শিল্পও ৰতিগ্রসৱ হয়। এমন অবস’ার শিকার, হিমাগারে কর্মরত শ্রমিকদের অভিযোগে শেষ পর্যনৱ উচ্চ আদালতকে হসৱৰেপ করতে হয়েছে।
সাধ্যের বাইরে বোঝা বহন করতে গিয়ে রাজশাহীর এক হিমাগারে কর্মরত শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রম আইনের বিধি বিধান প্রয়োগের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে করা রিটের শুনানী শেষে রায়ে বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হিমাগারে আলুর বসৱা বহনে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরম্নষ শ্রমিকের ৰেত্রে ৫০ কেজি ও নারী শ্রমিকের ৰেত্রে ৩০ কেজির বেশি ভার বহন নিষিদ্ধ। রায়ের বাসৱবায়ন নিশ্চিত করতে ছয় দফা নির্র্দেশনাও দেয়া হয়েছে। যেখানে শ্রম আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি-না তা অনুসন্ধান, তদনৱ ও আইন অনুযায়ি প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নিতে কারখানা পরিদর্শককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শ্রমিকের স্বার্থ রৰায় শেষ পর্যনৱ আদালতের এমন হসৱৰেপ অপরিহার্য হওয়াটা দুঃখজনক, কারণ শ্রম আইনে এমন বিধান রয়েছে আগে থেকেই।
২০০৬ সালের শ্রম আইনে ১৪ ধারায় শ্রমিকের ৰতি হতে পারে এমন কোনো ভারী জিনিস উত্তোলন, বহন অথবা নাড়াচাড়া করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৫ সালের বিধিমালার ৬৩ ধারাতেও অতিরিক্ত ওজন বিষয়ে একই ধরনের কথা রয়েছে। সেখানে বয়স্ক পুরম্নষ ৫০ কেজি ও নারী ৩০ কেজির অতিরিক্ত বহনের জন্য নিয়োগ দেয়া যাবে না বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা যে পালিত হয় না সেটা নিশ্চিত।
হিমাগারসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত বোঝা বহনে শ্রমিকদের বাধ্য করাই যেন স্বাভাবিক। শ্রম আইনের বাসৱবায়ন নিশ্চিত করার ব্যবস’া থাকলে এমন অবস’া দেখা যেত না। এ যেন সেই ‘কাজীর গরম্ন কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’ অবস’া। এমন অবস’ার কারণেই অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে গিয়ে প্রাণহানী ঘটেছে। যার প্রেৰিতে হিমাগারে শ্রম আইন বাসৱবায়নে উচ্চ আদালতের হসৱৰেপ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। আইন প্রয়োগে এমন দুর্বলতাই দেশে আইনের শাসনকেও দুর্বল, অনেকাংশে অকার্যকর করে রেখেছে বলাটা বাড়াবাড়ি হবে না নিশ্চয়ই!
৩০ লৰ শহীদ ও অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে এমন অবস’া আর কতদিন চলবে সেটাই প্রশ্ন।

Leave a Reply