চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী

03/03/2018 1:04 am0 commentsViews: 12

ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও বাজারে চালের দাম কমছে না। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও চালের দাম কেন কমছে না সেটা ভেবে দেখার বিষয়। কেজি প্রতি ২/১ টাকা দাম বাড়ার খবরও পাওয়া গেছে। এ অবস’ায় সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে খাদ্য-বান্ধব কর্মসূচী চালু করতে যাচ্ছে বলে গতকালের পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।
আগামী ৪ মার্চ থেকে রাজশাহীসহ সারাদেশে ১০টাকা কেজি দরে ফেয়ার প্রাইজে চাল বিক্রি শুরম্ন হবে। দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে কেজি প্রতি ১০ টাকায় মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করা হবে। রাজশাহীর ৯ উপজেলার ৭২টি ইউনিয়নের প্রায় ৮৩ হাজার পরিবার এই চাল পাবে। মার্চ, এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই ৫ মাস এ চাল বিক্রি হবে গ্রামাঞ্চলে। পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি শুরম্ন হবে। ডিলাররা ট্রাকে করে ১৭ টাকা দরে আটার সাথে ৩০ টাকা কেজি চালও বিক্রি করবেন। একজন ডিলার ১ টন করে চাল পাবেন যা ব্যক্তিপ্রতি সর্বাধিক ৫ কেজি করে বিক্রি করা হবে। এর ফলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ। সরকারি-বেসরকারি খাতে চালের আমদানিও ভালো। তারপরও বাজার ঊর্ধ্বমুখি থাকায় চালের দাম নাগালের মধ্যে আনতেই যে এমন কর্মসূচী সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। অথচ এখন চালের মজুদ ভালো। সরকারি গুদামে প্রায় ১১ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিকটন চাল এবং ৩ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিকটন গম থাকার পরও বাজারের এমন চিত্র স্বাভাবিক বলা যায় কি? ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ স’ানে এবং গত অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হলেও কেন বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকছে না সেটা বড় প্রশ্ন।
প্রধান খাদ্য হিসেবে চাল কিনতেই যদি মানুষের আয়ের বেশিরভাগ চলে যায় তবে সাধারণ মানুষের দুর্গতির শেষ থাকে না। এ অবস’ায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর প্রভাবে বাজারে চালের দাম কমে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে এ ৰেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি যাতে না হয় সে জন্য কঠোর নজরদারির ওপরই এর সফলতা অনেকাংশ নির্ভর করে, না বললেও চলে।

Leave a Reply